সংবাদদাতা তারকেশ্বর: ধনেখালির দশঘড়া একদা বর্ধিষ্ণু এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। এই গ্রামের রায় ও বিশ্বাস বাড়ির দুর্গাপুজোর মতোই চৌদ্দ ঘর বসু বাড়ির দুর্গাপুজোও খুব নামকরা। বাড়ির ঠাকুর জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস। ৫১৯ বছর পুরনো এই দেবীকে ঘিরে আছে বহু অলৌকিক ঘটনা। এই পুজোয় সিঁদুর খেলা হয় নবমী ও দশমীতে।
বসু পরিবারের সদস্য তুষারকান্তিবাবু জানান, মন্দিরের গর্ভগৃহ নিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই এক অলৌকিক বিশ্বাস প্রচলিত। জনশ্রুতি, মধ্যরাত্রিতে গর্ভগৃহে মানুষ থাকতে পারেন না। সে কাজ একেবারেই অসম্ভব। কারণ সে সময় দেবী মহামায়া বিচরণ করেন। বহু বছর আগে অনেকে সাহস করে গর্ভগৃহে ঘুমনোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ঙ্কর। রাতে এক অদৃশ্য শক্তির টানে তাঁরা জেগে ওঠেন। চোখের সামনে আগুনের মতো প্রখর সূর্য দেখতে পান। আলোর দীপ্তি ও তেজ ছিল ভয়ঙ্কর। তখন প্রত্যেকেই বাধ্য হয়ে তৎক্ষণাৎ গর্ভগৃহ ত্যাগ করেন। এখানে দেবী প্রতিষ্ঠিত পঞ্চমুণ্ডির আসনে। ভক্তরা মনে করেন দেবীর এই জাগ্রত রূপই মন্দিরকে মহিমাময় করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রঘুনাথ বসু ১৬০৫ সালে মূর্তি পূজো শুরু করেছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। চাকরির সুবিধার জন্য একসময় তিনি হুগলির উত্তরপাড়ায় ভদ্রকালী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৫০৭ সালে (বাং ৯১৪ বঙ্গাব্দে) ঘট স্থাপন করে পুজোর সূচনা হয়েছিল । পরবর্তী কালে রঘুনাথ বসু দুর্গামূর্তি স্থাপন করেন। অকাল মৃত্যু হয় রঘুনাথের। জাঁকজমক ধীরে ধীরে কমতে থাকে এই পুজোর। ১৭৪৫ সালে রামনারায়ণ বসু পুজো নতুন উদ্যোগে শুরু করেন। জৌলুস ফিরে আসে। দশঘড়ায় স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে বসু পরিবার। ১৮৪৭ সালে বংশের এক কন্যা রানি বৃন্দা রানির রংপুরের (বাংলাদেশ) রাজা জানকীবল্লভ সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর রানি শ্রীধর মন্দির স্থাপন করেন। সে সময় থেকেই শ্রীধর মন্দিরে নিত্যপুজো হচ্ছে। দুর্গাপুজোর সূচনা হয় উল্টোরথের দিন। সেদিন ঠাকুরের গায়ে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। চালচিত্রে আঁকা থাকে দশ মহাবিদ্যার ছবি। ধীরে ধীরে পুরনো দুর্গামন্দির কংক্রিটের করা হয়েছে। ষোড়শপচারে পুজো হয়। প্রতিবছর বহু মানুষ দেখতে আসেন। নিজস্ব চিত্র