শান্তনু দত্ত, কলকাতা: ‘পৃথিবী আমারে চায়, রেখো না বেঁধে আমায়...’ ১৯৪৮ সাল। নিজের বিয়ের বাসরে সত্য চৌধুরীর এই গানটি গেয়েছিলেন উত্তমকুমার। এর প্রায় এক দশক পর মুক্তি পেল মহানায়ক অভিনীত একই নামের ছবি। সে সময় সিনেমার প্রচারের অংশ ছিল বুকলেট। সিনেমার নাম, নায়ক-নায়িকার ছবি, গানের কথা, শিল্পী থেকে কাহিনির সারসংক্ষেপ— সবই থাকত বুকলেটে। বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসা সেই বুকলেট সংগ্রহই বেহালা নিবাসী পরমানন্দ চৌধুরীর নেশা। আদ্যন্ত উত্তমপ্রেমী মানুষটির সংগ্রহে রয়েছে মহানায়ক অভিনীত প্রায় সবক’টি সিনেমার বুকলেট। এছাড়াও রয়েছে সেই সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের বাইরে টাঙানো উত্তমকুমারের ছবির পোস্টার, বিজ্ঞাপন, লবি কার্ড, বিভিন্ন ছবি।
পরমানন্দবাবু সংগীতশিল্পী সত্য চৌধুরীর ভ্রাতুষ্পুত্র। বেড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক পরিবেশে। জেঠুর সঙ্গে উত্তমকুমারের কাজ দেখে মহানায়কের অনুরাগী হয়ে ওঠেন তিনি। সেই অনুরাগ থেকেই তাঁর বুকলেট সংগ্রহের ‘নেশা’। তাঁর কথায়, ‘জ্যাঠামশাইয়ের রেকর্ড, ছবির প্রিন্ট জোগাড় করতে করতেই অন্যান্য বিষয় সংগ্রহ করার ঝোঁক মাথায় চেপে বসে। নীরেন লাহিড়ি পরিচালিত পৃথিবী আমারে চায় ছবিতে উত্তমকুমারের কণ্ঠে গানটি শুনে তাঁর প্রতি আকর্ষণ বেড়েছিল। ওই ছবির বুকলেট খোঁজা শুরু করি। তা হাতে পাওয়ার পর যা আনন্দ, তা ব্যাখ্যাতীত। তারপর নেশা হয়ে গেল।’ তবে সম্পূর্ণ কালেকশন ছিল না তাঁর কাছে। মহানায়কের শতবর্ষের কথা মাথায় তাঁর সবকটি ছবির বুকলেটের কালেকশন সম্পূর্ণ করতে উদ্যোগী হন। অক্লান্ত সেই পরিশ্রমেরই ফসল তাঁর সংগ্রহ। আর্কাইভে দেখা মেলে উত্তমকুমার অভিনীত প্রথম ছবি ‘দৃষ্টিদান’এর বুকলেট। রয়েছে ‘কামনা’, ‘মর্যাদা’র মতো প্রথমদিকের একাধিক ছবি। সেখানে মহানায়কের নাম কখনও অরুণ কুমার আবার কখনও অরূপ কুমার। উত্তমকুমার নামের ব্যবহার শুরু হল ‘সহযাত্রী’ ছবি থেকে। ১৯৫৩ সালে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘শ্যামলী’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। সেই নাটকের পাঁচটি ভ্যারিয়েশনের বুকলেট রয়েছে পরমানন্দবাবুর সংগ্রহে। সঙ্গে রয়েছে উত্তমকুমার ও সাবিত্রীদেবীর সইও। পরমানন্দবাবু জানালেন, ‘আমার সংগ্রহে উত্তমকুমার অভিনীত ২০৯টি (বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে) ছবির বুকলেট রয়েছে। এছাড়াও মুক্তি না পাওয়া বহু ছবির বিজ্ঞাপনও রয়েছে। তাঁর সম্পর্কে লেখা বহু পত্র-পত্রিকার কাট আউটও রেখে দিয়েছি। স্ত্রী চৈতী চৌধুরীর সাহায্য ছাড়া এই কাজ আমার একার পক্ষে সম্ভব হত না।’ বেহালার বাড়িতে ইতিহাস সংরক্ষণ করছেন তিনি। সরকার সাহায্য করলে তাঁর কাজ আরও সহজ হবে বলে মনে করেন পরমানন্দবাবু।