নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এখনও কত পরিবারে শৌচাগার নেই, তা জানতে এবার স্কুলপড়ুয়াদের সাহায্য নিচ্ছে রাজ্য সরকার। গ্রামবাংলায় শৌচাগার নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই প্রথম পড়ুয়াদের কাজে লাগিয়ে সমীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত স্তরে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, বিশেষ করে পালাবদলের পর পঞ্চায়েত প্রধানদের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সার্বিকভাবে কর্মীসংখ্যার অভাবের কারণে শৌচাগার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের এই বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
চলতি অর্থবর্ষে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় রাজ্যের পঞ্চায়েত এলাকায় সাত লক্ষ শৌচাগার নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭৯৩টি শৌচাগার নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছে ৮৩ হাজার ৬২টির। পঞ্চায়েত দপ্তর ইতিমধ্যে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেই ফর্ম পৌঁছে যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে। শিক্ষকরা পড়ুয়াদের হাতে ফর্ম তুলে দেবেন এবং তা পূরণ করে জমা দিতে বলবেন। ফর্মে পড়ুয়ার নাম, বাবার নাম, বাবা বা মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, আইএফএসসি নম্বর, বাবা ও পড়ুয়ার আধার নম্বর, ফোন নম্বর, স্কুলের নাম, ব্লক ও জেলার নাম চাওয়া হয়েছে।
এই পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে বাঁকুড়া জেলার ওন্দা, চরণ ও রায়পুরসহ কিছু এলাকায়। সেখানে নিজেদের বাড়ির তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা দল বেঁধে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খোঁজও নিয়েছে। ‘পাইলট প্রকল্প’ সফল হওয়ার পরই রাজ্যজুড়ে এই উদ্যোগ চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
এক পদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘পড়ুয়ারা মিথ্যা তথ্য দেয় না। ফলে প্রথম পর্যায়েই গ্রামের শৌচাগার সংক্রান্ত বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।’ তবে পড়ুয়াদের দেওয়া তথ্যই চূড়ান্ত বলে ধরা হচ্ছে না। জমা পড়া ফর্ম এবং সংগৃহীত তথ্য গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরের আধিকারিকেরা যাচাই করবেন। এতে সমীক্ষার কাজ যেমন সহজ হবে, তেমনই প্রশাসনের হাতে একেবারে তৃণমূল স্তরের তথ্যও থাকবে বলে আশা করছে আমলা মহল।
রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, শৌচাগারহীন পরিবার চিহ্নিত করাই বর্তমানে অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই ঘাটতি মেটাতেই পড়ুয়াদের যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষকদের শৌচাগারের প্রয়োজনীয়তা এবং খোলা জায়গায় মলত্যাগের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল করতে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সাহায্য চাইবে পঞ্চায়েত দপ্তর। আগামী সপ্তাহে দুই দপ্তরের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এনিয়ে। প্রসঙ্গত, স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় শৌচাগার নির্মাণের জন্য উপভোক্তারা ৬ ‘হাজার টাকা করে দুই কিস্তিতে মোট ১২ হাজার টাকা পান।



