


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিউটাউনে সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসনের ‘ই-ব্লকে’ ডায়ারিয়ার অভিযোগ উঠতেই আবাসনের ট্যাংকের জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রের খবর, সেই পরীক্ষার রিপোর্টে রিজার্ভারের জলে ‘কলিফর্ম’ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। যা থেকেই জলদূষণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ব্যাকটেরিয়ার কারণেই শতাধিক আবাসিক ডায়ারিয়া ও পেটের ব্যথায় আক্রান্ত। তবে, কীভাবে বা কোথা থেকে এই ব্যাকটেরিয়া এল, তার উৎসের খোঁজ চলছে। আবাসিকদের জন্য বিকল্প পানীয় জলের ব্যবস্থা করে রিজার্ভারগুলি পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
কারও পেট খারাপ, কারও ঘনঘন পায়খানা, কারও আবার ওই উপসর্গের সঙ্গে জ্বর। কেউ আবার টানা পেটের অসুখের জেরে শয্যাশায়ী। একসঙ্গে একই ব্লকের শতাধিক আবাসিক অসুস্থ হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়। আবাসিকদের অভিযোগ, দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডায়ারিয়ার প্রকোপ চলছে। গত সোমবার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। কারণ, ওইদিন ই-ব্লকের একদল আবাসিক আবাসনের ফেসিলিটি ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। জল দূষণ, পরিচ্ছন্নতার অভাব, পরিষেবা নিয়ে অব্যবস্থা— ইত্যাদি প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। পরের দিন মঙ্গলবার থেকে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। আবাসিকদের জন্য ই-ব্লকে মেডিকেল ক্যাম্পের পাশাপাশি পরিস্রুত পানীয় জলের ট্যাংক পাঠানো হয়।
ওইদিনই আবাসনের প্রতিনিধি, পিএইচই এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক করেন নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ)। সেখানে এনকেডিএ’র চেয়ারম্যান শোভন চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, সাপুরজিতে পানীয় জল সরবরাহ করে পিএইচই কর্তৃপক্ষ। তবে, সেই জলের জন্য খরচ দেয় এনকেডিএ। ডায়ারিয়ার অভিযোগ উঠতেই আবাসনের ভিতরের রিজার্ভার, রান্নাঘর থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনা পরীক্ষায় ওই ব্যাকটেরিয়ার হদিশ মিলেছে। এক আধিকারিক বলেন, সরবরাহ করা জলে কোনও দূষণ নেই। আবাসনের রিজার্ভার থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার ছাড়াও, আবাসনে ১৪১টি ওভারহেড ট্যাংক রয়েছে। সেগুলি কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিষ্কার করা হবে, তার গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। পরবর্তীকালে আবাসনের জলাধার যাতে পরিষ্কার থাকে, সেই দাবিও তোলা হয়েছে। এনকেডিএ’র তরফে আবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আবাসিকদের কথা ভেবে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিতে। প্রশাসন তাঁদের পাশে রয়েছে।