


চেন্নাই ও নয়াদিল্লি: বিষাক্ত কাশির সিরাপ ‘কোল্ডরিফ’ খেয়ে ২২ শিশুর শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেফতার প্রস্তুতকারী সংস্থা শ্রীসান ফার্মার মালিক এস রঙ্গনাথন। বুধবার গভীর রাতে চেন্নাই পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার ওই সংস্থাকে পাকাপাকিভাবে বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সুব্রহ্মণ্যম। একইসঙ্গে রাজ্যের দুই পদস্থ ড্রাগ ইনসপেক্টরকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদিকে, বিষাক্ত কাশির সিরাপে ভারতে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)। তারা বলেছে, ভারতে স্থানীয়ভাবে বিক্রি হওয়া সিরাপের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, সপ্তাহ খানেক আগেই হু চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিল, বিষাক্ত কাশীর সিরাপ ভারত থেকে অন্য কোনও দেশে রপ্তানি হয়েছে কি না। ভারতের কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও হু-কে জানিয়েছে, এরকম কোনও কাশির সিরাপ অন্য কোনও দেশে পাঠানো হয়নি। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, কোল্ডরিফ সহ মোট তিনটি কাশির সিরাপ বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। বাকি দু’টি সিরাপের নাম রেসপিফ্রেশ টিআর এবং রিলাইফ। প্রথমটি তামিলনাড়ুতে তৈরি হতো। বাকি দু’টি গুজরাতে।
ডাইইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি) মূলত রঙের মতো বিভিন্ন কেমিক্যালের বাণিজ্যিক উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। কাশির সিরাপে এর অনুমোদিত মাত্রা হল ০.১ শতাংশ। অথচ কোল্ডরিফে তা পাওয়া গিয়েছে ৪৮.৬ শতাংশ। বাকি দু’টি সিরাপ রেসপিফ্রেশ ও রিলাইফে ডিইজি মিলেছে যথাক্রমে ১.৩৪ ও ০.৬১৬ শতাংশ। এদিকে, এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র । সিডিএসসিও সারা দেশে কাশির সিরাপ প্রস্তুতকারীদের নিয়মনীতি পালন, গুণমান ও সুরক্ষা মান মূল্যায়নের জন্য দেশব্যাপী অডিট ও পরিদর্শন অভিযান শুরু করেছে।