


সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: জমিতে চাষ করা যে আলু ছিল ভরসা, আজ সেই আলুই চাষিদের বোঝা। এ বছর আচমকা আলুর দামে বড়সড় ধস নামায় চরম বিপাকে পড়েছেন ধূপগুড়ির কৃষক সহ ব্যবসায়ীরা।
বিভিন্ন হিমঘর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও প্রায় ১৩ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে। অথচ কয়েক মাস আগেও যেখানে এক গাড়ি আলু (প্রায় ১০ হাজার কেজি) বিক্রি করে মিলত প্রায় এক লক্ষ টাকা, সেখানে বর্তমানে দাম নেমে এসেছে ৫০ হাজার টাকায়। ফলে মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। যদিও বর্তমানে খোলা বাজারে এক কেজি হিমঘরের আলুর দাম ২০ টাকা।
এই সময়টাই সাধারণত কৃষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হিমঘর থেকে আলু বের করে তা বিক্রির পর সেই টাকাতেই নতুন আলুর বীজ, সার, জমি সব প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু বাজারে দামের এই ভয়াবহ পতনে এখন কৃষকদের হিসেব মিলছে না। লাভ তো দূরের কথা, হিমঘরের ভাড়াটাও তুলতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে কৃষকদের মনে। ফলে বহু কৃষক ভাবছেন, এ বছর তাঁরা ফের আলু বুনবেন কি না। তবে কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাষিদের খুব বেশি পরিমাণ আলু এখন হিমঘরে মজুত নেই। কৃষকরা ইতিমধ্যেই জমিতে আলুর বীজ রোপণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক দেবাঞ্জন পালিত বলেন, কৃষকরা যাতে ঠিক দাম পান এজন্য সরকারের তরফে হিমঘর থেকে আলু বের করার সময়সীমা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন হঠাৎ এমন ধস? ব্যবসায়ীদের দাবি, অসম ও পাঞ্জাবে একযোগে বিপুল পরিমাণে আলু চাষ শুরু হয়েছে। পাঞ্জাব ও অসমের নদী উপত্যকার নতুন আলু ইতিমধ্যেই বাজার দখল করে নিয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গের আলু এতদিন বাইরের রাজ্যে পাঠানো হত, আজ সেই পথ কার্যত বন্ধ। চাহিদা কমতেই দাম কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাবলু চৌধুরী আক্ষেপের সুরে বলেন, এখনও হিমঘরে ১৩ শতাংশ আলু রয়ে গিয়েছে। সরকারিভাবে আলু বের করার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু যে বাজারদর চলছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, চরম লোকসানের মুখে পড়বেন কৃষকরা।
আলু ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আমরা আগেই কৃষকদের দ্রুত হিমঘর থেকে আলু বের করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু বেশি দামের আশায় অনেকেই তা করেননি। অন্যদিকে, নতুন আলুর দাম ৩৫ টাকা কেজি। চাষিদের দাবি, বাইরে থেকে নতুন আলু না এলে হিমঘরের আলুর দাম আরও বাড়ত। এতে তাঁরা লাভের মুখ দেখতে পেতেন।