ডাবের জলের চা! স্বাদ পেতে অগ্রদ্বীপ স্টেশনে ভিড়
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া : বাঙালি বরাবরই চা প্রেমী। রাস্তাঘাটে বেরিয়ে চায়ে চুমুক দেন না, এমন বাঙালিকে খুঁজে পাওয়া ভার। মাটির ভাঁড় পুড়িয়ে তন্দুরি চা থেকে লিকার, ঘন দুধের চা চাই সবার। অনেকে আবার নারকেল দুধ বের করে চা তৈরি করেন। সেই চায়ের নাকি অপূর্ব স্বাদ। কিন্তু, কখনও কি শুনেছেন ডাবের জল দিয়ে চা?  
হ্যাঁ, অবিশাস্য হলেও সত্যি। কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে ডাবের জলের তৈরি লিকার চা এর স্বাদ নিতে ভিড় জমাচ্ছেন দূরদূরান্তের চা প্রেমীরা। অগ্রদ্বীপ স্টেশনের কাছেই ডাবের জলের সঙ্গে শুধু মাত্র চা পাতা দিয়েই তৈরি হচ্ছে এমন সুস্বাদু চা। ক্রেতার সামনেই কাটা হচ্ছে ডাব। সেই ডাবের জল হালকা গরম করে তৈরি হচ্ছে লিকার চা। নেই দুধ, চিনি। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে ভিড়। কখনও আবার চায়ের কাপ হাতে পেতে দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনে। চা পাতার সঙ্গে ডাবের জলের এমন মেলবন্ধন—স্বাদে কতটা আলাদা? তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই  চা প্রেমীদের। 
চায়ের দোকানের মালিক সুকান্ত গড়াই। দু’বছর ধরে তিনি ডাবের জল দিয়ে তৈরি চা বিক্রি করছেন। সুকান্ত বলেন, ‘আমি প্রথমে বাড়িতে নিজে এই পদ্ধতিতে চা তৈরি করে পরীক্ষা করেছিলাম। ডাবের জলকে অল্প গরম করে লিকার পাতা ফেলে দিয়ে ফ্লেভারটা বের করে আনি। সেটাই খদ্দেরদের দেওয়া হয়। এই চায়ের স্বাদটাই এক্কেবারে আলাদা।’ 
স্বাদে আলাদা, কিন্তু দামে? দামও আলাদা। কেউ একা একটি ডাবের জলে চা খেতে পারেন। তাঁর জন্য এক দাম। ডাব সহ চায়ের দাম দিতে হবে। ওই ডাবের জলে যে কয়েক কাপ চা হবে, সেটাই নিতে হবে। এছাড়া কেউ শুধু এককাপ চা খেতে চাইলে দাম পড়ে দশ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লা শেখ বলেন, ‘নানা চা এর স্বাদ নিয়েছি। কিন্তু ডাবের জলের চায়ের অনুভূতিটাই সম্পূর্ণ আলাদা।’ অগ্রদ্বীপের বাসিন্দা প্রদ্যুৎ দাস বলেন, ‘আমরা বন্ধুদের নিয়ে প্রতিদিন ডাবের জলের চা পান করি। একবার খেলে কেউ ভুলতে পারবে না। তবে, সব ধরণের চা পাতা দিয়ে কিন্তু ডাবের জলের চা হবে না। এরজন্য বিশেষ ফ্লেভারের পাতা রয়েছে।’ 
ডাবের জলের উপকারিতা নিয়ে নানা মত রয়েছে। কিন্তু, ডাবের জলকে গরম করে তার সঙ্গে মেশালে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না,  তা নিয়েও জল্পনার শেষ নেই। স্থানীয় এক চিকিৎসকের মতে, , ডাবের জল মানুষের শরীরের পক্ষে উপকারী। কিন্তু তা দিয়ে চা তৈরি করে খেলে কি হবে, তা বলা যাবে না। কোনো উপসর্গ না দেখা গেলে আমরা সেভাবে বলতে পারব না। সুকান্তবাবুর অবশ্য দাবি, ‘আমি দু’ বছর ধরে ডাবের জলের চা মানুষকে খাওয়াচ্ছি। শরীরের পক্ষে তা খারাপ হলে কেউ না কেউ এসে জানাতেন। এখনও পর্যন্ত কেউ কেউ অভিযোগ করেননি।’

Advertisement