সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট: চকোলেট এমনই এক সুস্বাদু খাবার, যার নাম শুনলে জিভে জল আসে আট থেকে আশির। এ স্বাদের ভাগ হয় না। শুধু চকলেট নয়, কেক থেকে শুরু করে আইসক্রিম, কুকিজ, ব্রাউনি— মুখরোচক এসব খাবারে মন টানে আম জনতার। এই ধরনের খাবারের মূল উপাদানই হল কোকো। এদেশে কোকোর চাষ সেভাবে হয় বলে শোনা যায়নি। জলবায়ু ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন উপত্যকায় কোকো চাষের দেখা মেলে। আফ্রিকার ঘানা, আইভরি কোস্ট, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুনের জঙ্গল ঘেরা অংশে ইতস্তত খোঁজ মেলে কোকো চাষের। সেই কোকোর এখন দেখা মিলছে বসিরহাটে। বসিরহাটের মধ্যমপুরের বসুন্ধরা নার্সারিতে অনেক কসরত করে কোকো গাছে পাতা, ফুল ধরিয়েছেন মালিক। তবে সবটাই হয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে। ভালো ফলন হওয়ায় আগামী দিনে বাণিজ্যিকভাবে কোকো চাষ করা যায় কি না, তা ভেবে দেখছেন তিনি।
চারা গাছ বড় হয়ে ফুল ও ফল ধরতে সময় লাগে তিন-চার বছর। ফুল থেকে ফল হতেই পেরিয়ে যায় ছ’মাস। ফলের ভিতরে পাঁচটি সারিতে থাকে ৩০ থেকে ৪০টি বীজ। এই বীজ বের করে রোদে শুকনোর পর সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে যে শাঁস পাওয়া যায়, তাই হল কোকো বিন। এই কোকো বিনের গুঁড়োই কোকো পাউডার বলে পরিচিত। যা বিভিন্ন ‘স্বাদিষ্ট’ খাবারের অন্যতম উপাদান। বসুন্ধরা নার্সারির শাহরুখ ইসলাম কথা প্রসঙ্গে বলেন, দু’বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কোকো গাছের বীজ রোপণ করেছিলাম। সেই গাছ আকারে ভালোই বড় হয়েছে। পরিণত গাছ সাত-আট মিটার উচ্চতার হয়। নার্সারিতে যে গাছ করা হয়েছে, তাতে ফুল এসেছে। এবার এর থেকে চারা গাছ তৈরির পরিকল্পনা আছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবেও এই গাছের চাষ করা যেতে পারে। শাহরুখের কথায়, কোকো গাছ এমন জায়গায় লাগানো দরকার, যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না। এরাজ্যের জলবায়ু কোকো চাষের জন্য উপযুক্ত। ইচ্ছা করলে কেউ ছাদ-বাগানেও কোকোর চাষ করতে পারেন। ডালপালা ছেঁটে এই গাছকে নির্ধারিত উচ্চতার মধ্যে বেঁধে রাখাও সম্ভব। শুধু খাবারের উপাদান হিসেবে নয়, ওষধি হিসেবেও কোকোর ভূমিকা অপরিসীম। এটি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে এই কোকো ফল। স্নায়ুরোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এর। নিউরো ডিজেনারেটিভ রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি হার্টকেও ভালো রাখে। সব মিলিয়ে একাধিক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই গাছের চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির প্রহর গুনছেন এই গাছ ব্যবসায়ী। চলছে গাছের পরিচর্যা। -নিজস্ব চিত্র