Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬

সরকার শর্ত মানতেই আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ জনতা পার্টির

ককরোচ জনতা পার্টি সরকারের শর্ত মেনে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর কী ঘটছে? বিস্তারিত পড়ুন।

সরকার শর্ত মানতেই আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ জনতা পার্টির
  • ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চাপের কাছে নতি স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা তো দিলেনই। পাশাপাশি আন্দোলনকারী ‘ককরোচ’দের অন্যান্য শর্তও মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্য হল মোদি সরকার। আর শর্ত মানতেই শনিবার আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিল ককরোচ জনতা পার্টি। এদিন যন্তরমন্তরের অদূরে আবারও ‘ককরোচ’দের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হয় মোদি সরকারকে। কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিষয়ক মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ‘ককরোচ’দের প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠক করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এনিয়ে এটি ছিল কেন্দ্র-ককরোচ তৃতীয় বৈঠক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর ককরোচ জনতা পার্টি আরও দু’টি দাবির উপর জোর দিয়েছিল। সেগুলি হল, নিট দুর্নীতির কারণে আত্মহত্যা করা প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারী ‘ককরোচ’দের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া আশ্বাস। 

Advertisement

এদিন সকালেই যন্তরমন্তরের অবস্থান মঞ্চ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যে, শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা দিলেও যদি অন্য দুই শর্ত মানা না হয়, তাহলে আন্দোলন চলবেই। বলা বাহুল্য, সেই ঝুঁকি আর নিতে পারেনি মোদি সরকার। জানা যাচ্ছে যে, এদিন কনস্টিটিউশন ক্লাবের বৈঠকে সৌরভ এবং আশুতোষ দু’জনেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা গ্রহণের জন্য দু’জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। কিন্তু একইসঙ্গে সাফ জানিয়ে দেন, অন্য দু’টি শর্ত সরকারকে মানতেই হবে। নাহলে আন্দোলন থামবে না। দু’জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শনিবারও এসংক্রান্ত দাবিদাওয়া ‘ককরোচ’দের লিখিতভাবে জমা দিতে বলেন। তা দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা জানিয়ে দেন, শর্ত মেনে নেওয়া হবে। আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক। বৈঠক শেষে যৌথভাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয় এদিন। সেখানে জেপি নাড্ডা বলেন, ‘যেসব নিট পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের ব্যাপারে কেন্দ্রও প্রথম থেকে সমব্যথী। যত বেশি সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে।’ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। 
সৌরভ এবং আশুতোষ বলেন, ‘সরকার যখন সমস্ত শর্ত মেনে নিয়েছে, তখন আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এই সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চ থেকেই আমরা তা ঘোষণা করছি। আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভস্থল ত্যাগ করুন।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে হাতও মেলান ‘ককরোচ’দের প্রতিনিধিরা। যদিও তাঁরা জানিয়েছে যে, চার সপ্তাহ পরে ফের তাঁদের সঙ্গে কেন্দ্রের বৈঠক হতে পারে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কার সংক্রান্ত যেসব পরামর্শ সরকারকে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করছে, বৈঠকে সেই ব্যাপারেই আলোচনা হবে। বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হবে পরে। শনিবার আন্দোলন শেষ হতেই পুলিশ, র‌্যাফকে ধীরে ধীরে যন্তরমন্তর ছাড়তে দেখা যায়। খুলে দেওয়া হয় দিল্লি মেট্রোর বন্ধ স্টেশনগুলিও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ