নয়াদিল্লি ও ভোপাল: ‘মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। রাজ্যের মানুষকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু, সেকাজে আমি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছি।’ রবিবার সকালে এই বয়ানে একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাতেই হইচই পড়ে যায় নেটিজেনদের মধ্যে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তো বিজেপির মোহন যাদব। তাহলে ওই চিঠির মানে কী? জানা গিয়েছে, আসল ইস্তফা পত্রের মতো দেখতে সেই চিঠির ছত্রে ছত্রে তিনি ব্যাঙ্গের সুরে নিশানা করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে। দীপকের অভিযোগ, একের পর এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত লজ্জাজনক। মুখ্যমন্ত্রীও দায় এড়াতে পারেন না। তাই মোহন যাদবকে নিশানা করেই অভিনব কায়দায় ওই চিঠি লিখেছেন।
কিন্তু, কেন এই অভিনব পোস্ট? জানা গিয়েছে, রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব ভাগে রয়েছে বালাঘাট জেলা। জুলাই মাস থেকে সেখানকার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় একাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন দীপকে। সেই সময় বেশ কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সার ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতাকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। তিনি লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে এসেছেন কি না? এতদিন পর কেন এলেন? বিজেপি আমলের উন্নয়ন দেখতে পারছেন না কেন? —এধরনের নানা প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। দেরিতে আসার জন্য ক্ষমাও চান দীপকে। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ব্যাঙ্গাত্মক চিঠি শেয়ার করেন দীপকে। তাতে সরাসরি মোহন যাদবকে নিশানা করেন তিনি। কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানেই জেন জি আন্দোলনের নেতা লেখেন, ‘বালাঘাটে ৩০টির বেশি আদিবাসী শিশুর মৃত্যুর পর আমি আর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসে থাকত পারব না। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে আমি এর দায়িত্ব নিচ্ছি। যথাযথ সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে বহু প্রাণ বাঁচানো যেত। কিন্তু, তা হয়নি। এই ব্যর্থতার দায় আমার।’