Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কয়লা পাচার: ধৃত মামা-ভাগ্নের বাড়ি থেকে উদ্ধার আড়াই কোটির গয়না, ২৮ লক্ষ নগদ

কয়লা পাচার কাণ্ডে ধৃত মামা চিন্ময় মণ্ডল ও ভাগ্নে কিরণ খাঁর বাড়ি থেকে কোটি টাকার বেশি সোনার অলংকার ও বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার করল ইডি

কয়লা পাচার: ধৃত মামা-ভাগ্নের বাড়ি থেকে  উদ্ধার আড়াই কোটির গয়না, ২৮ লক্ষ নগদ
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়লা পাচার কাণ্ডে ধৃত মামা চিন্ময় মণ্ডল ও ভাগ্নে কিরণ খাঁর বাড়ি থেকে কোটি টাকার বেশি সোনার অলংকার ও বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার করল ইডি। কয়লা পাচার করে আসা কালো টাকায় এই সোনা কেনা হয়েছিল বলে কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি। দুর্গাপুর ও আসানসোলের একাধিক দোকান থেকে নগদেই এই জুয়েলারি সামগ্রী কেনা হয়েছিল বলে জেনেছে তারা। একইসঙ্গে এই দুর্নীতি মামলায় আরো এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ এক কোটি টাকা। ইডি জানিয়েছে, এগুলি তারা বাজেয়াপ্ত করেছে। যে-সমস্ত জুয়েলারি দোকান থেকে এগুলি কেনা হয়েছিল, জেরার জন্য সেই মালিকদেরও তলব করছে তারা। কয়লা পাচার মামলায় লালা-ঘনিষ্ঠ কোল মাফিয়া চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁকে সোমবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করে ইডি। তাঁরা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। ইডি অভিযোগ পেয়েছে, দুর্গাপুর-আসানসোলের একাধিক জায়গা থেকে তাঁরা বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন করতেন। প্রতিদিন লরি লরি কয়লা তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন। গোটা লেনদেনই চলত নগদে। ইডি তদন্তে উঠে আসে বেআইনি কয়লার কারবার চালিয়ে মামা-ভাগ্নে ১৫০ কোটি টাকার বেশি রোজগার করেছেন। এর একাংশ লালাসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে বলে এজেন্সির দাবি। কয়লা বিক্রি করে আসা টাকা মামা-ভাগ্নে কোথায় লগ্নি করেছেন তার খোঁজ শুরু হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দুর্গাপুর -আসানসোলে একাধিক প্রোমোটিংয়ে তাঁদের টাকা খাটছে। খাতা-কলমে অন্য কেউ বহুতল তৈরি করলেও বাস্তবে মালিক এই দুজন। দুর্গাপুর ও আসানসোলে তাঁরা বিঘার পর বিঘা জমি কিনে রেখেছেন। ওই জমিগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। 

Advertisement

এজেন্সি আরো জানতে পারে, এই দুজন গত তিনবছরে বিভিন্ন দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ সোনাদানাও কিনেছেন। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন, কয়লা বিক্রির কালো টাকাতেই ওইসব জুয়েলারি সামগ্রী কেনা হয়েছে। এই খবরের ভিত্তিতে মামা চিন্ময় এবং ভাগ্নে করণের দুর্গাপুর-আসানসোলের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সেখান থেকে ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না উদ্ধার হয়। এই অলংকারগুলি কোথা থেকে এবং কত টাকায় কেনা হয়েছিল তার হিসেব চাওয়া হয় ক্রেতাদের কাছে। কিন্তু অভিযুক্তদের পরিবার কেনাকেটার কোনো রসিদ দেখাতে পারেনি বলে ইডি দাবি করেছে। একইসঙ্গে ২৮ লক্ষ টাকা নগদও মেলে তাঁদের কাছে। তাঁদের আলমারিতেই ছিল ওই বিপুল অর্থ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ