


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়লা পাচার কাণ্ডে গ্রেপ্তার করা হল মামা-ভাগ্নেকে। সোমবার দিনভর জেরার পর গভীর রাতে মামা চিন্ময় মণ্ডল ও ভাগ্নে কিরণ খাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় কয়লা পাচারের বিভিন্ন নথি।
ইডি সূত্রের খবর, চিন্ময় দুর্গাপুরের বাসিন্দা। বেআইনি কয়লা উত্তোলনে তাঁর হাতেখড়ি বাম আমলে। তাঁর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট চলত। আসানসোল-দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেআইনভাবে কয়লা তুলে এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন জায়গায় পাঠাত বলে অভিযোগ। ২০১১ সাল থেকে মামার সঙ্গে ওই অবৈধ কারবারে যোগ দেন ভাগ্নে কিরণও। ২০২১ সালে চিন্ময় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের হাতে ধরা পড়েন। অভিযোগ ছিল বেআইনিভাবে বালি মজুত করা। এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয় তাঁকে। ইডি অভিযোগ পেয়েছে, এখন আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় বেআইনি কয়লা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন এই মামা-ভাগ্নে জুটি। দৈনিক বহু লরি কয়লা তাঁদের অবৈধ খাদান থেকে বেরিয়ে চলে যাচ্ছে নানা জায়গায়। বহু কোটি টাকা রোজগার করছেন দুজনে মিলে।
ইডির দাবি, কয়লার বেআইনি কারবার থেকে আসা নগদ টাকায় দুর্গাপুর ও আসানসোলের বিভিন্ন জায়গায় প্রোমোটিং ফেঁদেছেন তাঁরা। ওইসঙ্গে প্রচুর জমিও কেনা হয়েছে তাঁদের তরফে। তল্লাশিতে এই সংক্রান্ত একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। সেসব ঘেঁটে এজেন্সির অফিসাররা জেনেছেন, এগুলি বছর পাঁচেক আগে নগদে কেনা হয়। পাশাপাশি বাঁকুড়ার মেজিয়ায় তাঁদের বালিঘাটের বিষয়ে নথি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে আসে, এই মামা-ভাগ্নে আবার বিতর্কিত ব্যবসায়ী লালার ‘ডান হাত’! লালার নির্দেশমতো তাঁরা বেআইনি কয়লা খাদানের কারবার চালাচ্ছিলেন।
তাঁদের টাকার উৎস জানতেই সোমবার দুজনকেই ইডি অফিসে তলব করা হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্তারা জানতে চান, তাঁরা বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হলেন কীভাবে? বেআইনি কয়লা কারবার চালাচ্ছিলেন তাঁরা কার মদতে? ইডি সূত্রের দাবি, একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন তাঁরা দুজনেই। জবাব সন্তোষজনক না-হওয়ায় গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের।