Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কয়লা শিল্পের হাত ধরে দীর্ঘদিনের জলসঙ্কট মিটছে ডেউচা পাচামিতে

কয়লা শিল্পের হাত ধরে দীর্ঘদিনের জলসঙ্কট সমস্যা মিটছে ডেউচা পাচামিতে। প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ও মহম্মদবাজার ব্লক প্রশাসন।

কয়লা শিল্পের হাত ধরে দীর্ঘদিনের জলসঙ্কট মিটছে ডেউচা পাচামিতে
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, সিউড়ি: কয়লা শিল্পের হাত ধরে দীর্ঘদিনের জলসঙ্কট সমস্যা মিটছে ডেউচা পাচামিতে। প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ও মহম্মদবাজার ব্লক প্রশাসন। তাতে খুশি এলাকার মানুষজন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গরম পড়তেই তীব্র জলের সমস্যা দেখা যায় মহম্মদবাজারের ডেউচা পাচামি এলাকায়। সাধারণ নলকূপে জল ওঠে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে এলাকায় গ্রাম পিছু একটি করে সাবমার্সিবল ছিল। এছাড়া এক থেকে দু’টি করে টিউবওয়েল ছিল। কিন্তু টিউবওয়েলের জল পানের যোগ্য ছিল না। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীকে সেই জল পান করতে হতো। জলের জন্য সাবমার্সিবলের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। স্বাভাবিকভাবেই গ্রীষ্মের সময় চরম জলকষ্ট ভোগ করতে হতো এলাকার লোকজনদের। কিন্তু ডেউচা পাচামির প্রস্তাবিত কয়লা শিল্প নিয়ে রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিতেই এলাকায় উন্নয়ন শুরু হয়। পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এলাকাভিত্তিক সাবমার্সিবল ও জলের ট্যাঙ্ক লাগিয়ে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আর মাসখানেকের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে দাবি দপ্তরের।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় থেকে দু’কোটি টাকা খরচে প্রস্তাবিত কয়লা খনি এলাকায় জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯টি সাবমার্সিবল বসানোর কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আরও চারটি সাবমার্সিবল বসানোর কাজ চলছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মথুরাপাহাড়ী, চাঁদা, দেওয়ানগঞ্জ, কেন্দ্রপাহাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, জেঠিয়া, ঢোলকাটা সহ একাধিক গ্রামে কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দপ্তরের কর্তাদের কথায়, যেখানে আগে একটি গ্রামে একটি করে সাবমার্সিবল ছিল। এখন তা সংখ্যায় বেড়ে গ্রাম পিছু তিন থেকে চারটি করে হয়েছে। বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জলকষ্টও অনেকাংশে দূর হয়েছে।
স্থানীয় আদিবাসী নেতা রবি টুডু বলেন, আগে এই এলাকার মানুষকে জলের জন্য চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। এখন ঘরে ঘরে জলের সংযোগ হয়েছে। এলাকাবাসী খুশি। 
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অনেকের ঘরে জলের সংযোগ পৌঁছে গিয়েছে। আর মাসখানেকের মধ্যে ডেউচা পাচামি কোল ব্লক এলাকার প্রত্যেক ঘরে ঘরে জল পৌছে যাবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ