সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। আলোর রোশনাইয়ে মাতোয়ারা স্টেডিয়াম সংলগ্ন হাইরাইজগুলি। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। স্টেডিয়ামের ভিতরে ডোনা গাঙ্গুলির তত্ত্বাবধানে চলছে ফাইনালের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। আর দু’নম্বর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে কালো কাপড়ের আড়ালে দল নিয়ে খেতাবি লড়াইয়ের চূড়ান্ত মহড়ায় মগ্ন সবুজ-মেরুন কোচ হোসে মোলিনা। ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগেও প্রিয় ফুটবলারদের উৎসাহ দিতে নেই কোনও সমর্থক। গুমোট পরিস্থিতিতে শনিবার খেতাব জিতে অনুরাগীদের মন জয় করতে মরিয়া সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। আর সেই লক্ষ্যেই প্রতিপক্ষের সবচেয়ে দুর্বল জায়গায় উইং-ব্যাকে ঘা দিতে চান মোলিনা। শুক্রবার তাই উইং-প্লে’তেই জোর দিলেন বাগান কোচ।
গত কয়েক বছরে ভারতীয় ফুটবলে সেরা দল মোহন বাগান। তবে এবার ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে ১-২ ব্যবধানে হারে মোলিনার দল। অস্কার ব্রুজোঁর হাত ধরে চলতি মরশুমে পরিকল্পিত ফুটবল মেলে ধরেছেন সাউল-বিষ্ণুরা। সেই তুলনায় মোহন বাগান অনেক বেশি নড়বড়ে। একেই দেরিতে অনুশীলন শুরু করায় ফুটবলারদের ফিটনেসের ঘাটতি বারবার ফুটে উঠেছে। তবে শিল্ডের আগে সেই জায়গায় জোর দেন মোলিনা। ফাইনালের আগেও তাতে কোনও পার্থক্য ঘটেনি। এদিন অনুশীলনের শুরুতে ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের পর ছোট ছোট গ্রুপে পাসিং ফুটবলে জোর দেন বাগান ফুটবলাররা। এরপর সিচুয়েশন প্র্যাকটিস। এই পর্বে বিভিন্ন কম্বিনেশন যাচাই করে নেন স্প্যানিশ কোচ।
চলতি মরশুমে ইস্ট বেঙ্গল মাঝমাঠের হৃৎপিণ্ড মিগুয়েল ফিগুয়েরা। ব্রাজিলিয়ান এই প্লে-মেকারকে রুখতে জোড়া ব্লকারে দল সাজাবেন মোলিনা। সেক্ষেত্রে মাঝমাঠে আপুইয়ার সঙ্গী হবেন অনিরুদ্ধ থাপা। পাশাপাশি রক্ষণে জোড়া বিদেশি ডিফেন্ডারে শুরু করবে মোহন বাগান। দুই উইং-ব্যাকে আশিস আর শুভাশিস। উইং-হাফে লিস্টন ও মনবীর। চলতি মরশুমে একেবারেই চেনা ছন্দে নেই পাঞ্জাবি ফুটবলারটি। তবে শনিবার ফাইনালে মনবীর ছন্দে থাকলে মোলিনার কাজ অনেকটাই সহজ হবে। আর গোলের জন্য আরও একবার জেমি ম্যাকলারেনের উপরই আস্থা রাখবেন বাগান কোচ।