ইস্ট বেঙ্গলের স্বার্থে ইগো বিসর্জন দিন কোচ হাবাস
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিত ভট্টাচার্য: হরিশের হাতে আটক ইস্ট বেঙ্গল। জামিন করাতে ব্যর্থ হাবাস। মেরিনা বিচের পাড়ে ইস্ট বেঙ্গলের ভরাডুবি দেখতে দেখতে এটাই মনে এল। চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে বাঁশি হাতে হরিশকে দেখে মনে কু ডেকেছিল। এই ভারতীয় রেফারি ধোয়া তুলসীপাতা নন। একটি ক্ষেত্রে ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। তবে চেন্নাইয়ানও স্পট কিক পেতে পারত। তাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা বৃথা। ভারতীয় ফুটবল হাতের তালুর মতো চেনেন হাবাস। দুর্বল রেফারিং, খারাপ মাঠ, পরিকাঠামোর সমস্যা— এসব জেনেই দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। ইস্ট বেঙ্গল হারতে পারে। তা বলে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখতে হবে ভাবিনি। চেন্নাইয়ানের কাছে ৫ গোল খেয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। চরম লজ্জা। অথচ সাফল্য পেতে তাঁর দিকেই লক্ষ লক্ষ সমর্থক তাকিয়ে। দলের স্বার্থে কোচের অহেতুক গোঁয়ার্তুমি বিসর্জন দেওয়া উচিত। অন্যথায় আরও দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। 

Advertisement

চলতি মরশুমে এখনো ইনভেস্টরহীন ইস্ট বেঙ্গল। শুনলাম সমস্যা মেটাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমিত সামর্থ্যে দল গঠনের চেষ্টা করেছে টিম-ম্যানেজমেন্ট। ডুরান্ড কাপে ইস্ট বেঙ্গলের ঝাঁঝালো পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। স্প্যানিশ কোচ তখন সপ্তম স্বর্গে। কিন্তু সময় গড়াতেই আকাশ থেকে মাটিতে হাবাস। আইএফএ শিল্ডে ব্যর্থতার পর এএফসি’র দোহাই দিয়েছিলেন। রশিদদের জমি ধরিয়ে শিল্ড পেয়েছে মোহন বাগান। ঘরোয়া লিগকে গুরুত্ব না দিয়ে ফুটবলার ছাড়েননি। এএফসিও যায় যায়। এবার আইএসএলেও ৫ গোল দিল ক্লিফোর্ডের চেন্নাই। ইস্ট বেঙ্গল ম্যানেজমেন্টের উচিত অবিলম্বে কোচের সঙ্গে বসা। কী হচ্ছে এটা! মেরিনা বিচের পাড়ে জিভুলিচদের পারফরম্যান্স দেখে শিউরে উঠতে হয়। দুই উইং হাফই নড়বড়ে। অথচ হাবাসের দলে বরিস সিং রোজই ব্রাত্য। আনোয়ারহীন ইস্ট বেঙ্গল দরমার বেড়ার মতো মচমচে। একটু চাপেই ভেঙে পড়ে। সন্দীপ মান্ডি একবার স্টপার তো পরদিনই উইং হাফ। এত শাফলিং কেন? মাঝমাঠ ব্লকিং শূন্য। চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে জিকসনের দোষে পেনাল্টি আদায় করে নেয় ব্রাইসন। মাঝমাঠে অহেতুক বল হোল্ড করতে গিয়ে বিপদ বাড়িয়েছিল জিকসন। পরপর ম্যাচে ব্যর্থ। অথচ শৌভিক চক্রবর্তীকে মনেই পড়ে না হাবাসের। রক্ষণভাগ ভেঙে তছনছ। প্রতিপক্ষের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে হাই লাইন ডিফেন্স মুখ থুবড়ে পড়বেই। ক্লান্ত রশিদরা তখন হাঁফাচ্ছে। এরপরেও অনুশীলনে লোড না কমালে সমস্যা বাড়বে।
বিদেশিদের নিয়েও পরের পর অভিযোগ। পোলিশ স্ট্রাইকার লুকাস নাকি ছুটি কাটাতে দেশে! অজি ফুটবলার ইকোনমিডিস প্রতি ম্যাচেই বেঞ্চে। তিনি কি আদৌ ফিট? না হলে বলতে হবে সোনা কিনে পিতল বয়ে বেড়াচ্ছে ইস্ট বেঙ্গল। নিম্নমানের বিদেশি নেওয়া হল কেন? এর উত্তর হাবাসকেই দিতে হবে। স্প্যানিশ কোচের মনে রাখা উচিত, ময়দানে কোনোকিছুই স্ট্যাটিক নয়।