আমেদাবাদ: কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে বোলিং আক্রমণ শুরু করেছিলেন পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন সলমন আগা। আর মোতেরায় নেদারল্যান্ডসের হয়ে দায়িত্বটা সামলেছিলেন আরিয়ান দত্ত। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারে অফ স্পিনারকে দিয়ে বল করানোর স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে বিপক্ষ। আর তার কারণ টিম ইন্ডিয়ার টপ থ্রি ব্যাটারই বাঁ-হাতি। অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান ও তিলক ভার্মাকে রুখতে পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডসের সেই কৌশল আংশিক সফলও। দু’টি ম্যাচেই প্রথম ওভারে অফ স্পিনারের শিকার অভিষেক। তিলককেও স্বচ্ছন্দ দেখায়নি ঘূর্ণি বলের মোকাবিলায়। শোনা যাচ্ছে, মোতেরায় রবিবার সুপার এইটের ম্যাচে প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করামও প্রথম ওভারে বল করার কথা ভাবছেন। তিনিও যে অফ স্পিনার!
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তাই হোমওয়ার্কে জোর দিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর ক্লাসে লম্বা সময় বাধ্য ছাত্রের মতো থাকলেন অভিষেক। অফ স্পিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটও করলেন তিনি। আসলে স্পিনের বিরুদ্ধে অতীতের দক্ষতা ক্রমশ উধাও ভারতের। তার উপর চলতি বিশ্বকাপের ব্যাটিং লাইন আপে আটজনের মধ্যে ছ’জনই বাঁ-হাতি। ফলে প্রতিপক্ষের অফ স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। তাই ডানহাতি-বাঁ হাতি কম্বিনেশনে ভারসাম্য আনতে চার নম্বর থেকে সূর্যকে তিনে তুলে আনার চর্চা চলছে ক্রিকেটমহলে। কিন্তু সেখানেও মুশকিল। গত এক-দেড় বছরে তিনে নেমে ‘স্কাই’ একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি।
তাছাড়া চলতি বিশ্বকাপে অফ স্পিনে সূর্যর রেকর্ডও আহামরি নয়। ২৭ বলে এসেছে ২৮। আবার হার্দিককে তিনে নামালে ডেথ ওভারে মারার লোকের ঘাটতি পড়বে। তাছাড়া তিনে ব্যাটিংয়ের অভ্যাসও নেই তারকা অলরাউন্ডারের।
সমস্যা থেকে মুক্তির আরও একটা বিকল্প থাকলেও তা বাস্তবায়নের উপায় নেই। চলতি আসরে অফস্পিনে ৩১ বলে ২৬ করা তিলকের জায়গায় সঞ্জুকে খেলানো। কিন্তু কেরলের কিপার ব্যাটসম্যান একেবারেই ফর্মে নেই। অগত্যা প্রথম এগারোর বাইরে তিনি। দায়িত্ববোধের নিরিখেও তিলকের তুলনায় তিনি পিছিয়ে। কঠিন পরিস্থিতিতে একবারেই নির্ভরযোগ্য নন স্যামসন। এই পরিস্থিতিতে রেডিমেড সমাধান একটাই। নেটে অফ স্পিনের বিরুদ্ধে অভিষেক, তিলকদের কঠোর প্র্যাকটিস। আর শুক্রবার সন্ধ্যায় মোতেরায় সেটা করতেই দেখা গিল টিম ইন্ডিয়াকে।
এটা ঘটনা যে, বিশ্বক্রিকেটে এখন ভালো অফ স্পিনারের আকাল। চলতি কাপযুদ্ধে মূলত অলরাউন্ডাররাই অফ স্পিনারের কাজটা সারছেন। পাকিস্তানের সলমন আগা ও সাইম আয়ুব, দক্ষিণ আফ্রিকার আইডেন মার্করাম, জিম্বাবোয়ের সিকন্দার রাজা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোস্টন চেস, নামিবিয়ার জেরহার্ড ইরাসমাস, নেদারল্যান্ডসের কলিন অ্যাকারম্যান কোনওক্রমে ঠেকা দিলেও তাঁরা সকলেই পার্টটাইম স্পিনার। তবুও অফ স্পিনের দুর্বলতাকে উপেক্ষা করা উচিত নয় কোচ গম্ভীরের। কথায় আছে, সাবধানের মার নেই!