হিউস্টন: মার্তিনেল্লির গোলের পর হিউস্টনের হলুদ গ্যালারিতে সবুজ ঝড়। কোপাকাবানা সৈকত টু রিও ডি জেনেইরো— উত্তাল সাম্বায় দুলছে কোমর। কিন্তু তিনি কোথায়? কার্লো আনসেলোত্তি নির্বিকার। চিউইংগাম চিবোচ্ছেন। ব্যস ওইটুকুই। ব্রাজিল কোচ ঋষির মতো নিরাসক্ত। আবেগ যেন শুষে নিয়েছে ব্লটিং পেপার। তিতে কোচ হলে হয়তো পিজিয়ন ড্যান্স শুরু হত। স্কোলারি বা দুঙ্গা? হারিয়ে যেতেন সাপোর্ট স্টাফেদের উচ্ছ্বাসে। কিন্তু ডন কার্লো সবার চেয়ে আলাদা। সাংবাদিক সম্মেলনে নেইমারদের কোচের মন্তব্য সাড়া ফেলেছে। আনসেলোত্তি বলেছেন, ‘জাপানের অবিশ্বাস্য লড়াইকে কুর্নিশ। ওরা সম্মান পাওয়ার যোগ্য।’ তবে অভিজ্ঞ কোচ যাই বলুন, সোশ্যাল সাইট থেকে মিডিয়ায় আনসেলোত্তি বন্দনা চলছেই।
বিখ্যাত ‘ও গ্লোবো’ দৈনিকে কলাম লিখছেন রোমারিও। ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বরাবরই মুডি। ফুটবল কেরিয়ারে বাঘা বাঘা কোচও রগচটা রোমারিওকে সমীহ করতেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের বক্তব্য,‘দ্বিতীয়ার্ধে অনবদ্য কামব্যাক ব্রাজিলের। ১০এর মধ্যে ৮ নম্বর দেওয়াই যায়। তিনটি পরিবর্তনে মোড় ঘোরালেন আনসেলোত্তি।’ ইতালিয়ান কোচ অবশ্য খেলা ঘোরানোর বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। এমন উদাহরণ প্রচুর। ২০২২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কথাই ধরা যাক। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বিরুদ্ধে পিছিয়ে আনসেলোত্তির রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধে রডরিগোকে নামিয়ে কার্লোর চেক মেট। হিউস্টনেও আস্তিন থেকে প্রথমে বেরোলেন এনড্রিক। শেষে মার্তিনেল্লি। লক্ষ্মীন্দরের বাসরঘরের মতো জাপানের লোহার দুর্গেও ছিদ্র তৈরি হল। বিপক্ষ রক্ষণে শেষ পেরেকটা সেই মার্তিলেল্লিই গাঁথলেন। মনে রাখতে হবে ম্যান ইউ, বার্সেলোনায় যাঁর জায়গা হয়নি। ব্রাজিলিয়ানকে তুলে নিয়েছিল আর্সেনাল। জহুরি আনসেলোত্তি প্রতিভা চিনতে ভুল করেননি। কঠিন সময়ে নেইমারের প্রতীক্ষায় উদ্বেল গ্যালারি। কার্লো নামালেন মার্তিনেল্লিকে। চার বছর আগে রডরিগো ফর্মুলা উঠে এল হিউস্টনে। কামেসিরোর কথাই ধরা যাক। আনসেলোত্তির প্রিয় পাত্রকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়েছে। প্রথমার্ধে কাসেমিরোকে গতিতে টপকে গোল করেন জাপানের সানো। বিরতির পর এনড্রিককে নামিয়ে হাইপ্রেস শুরু করালেন কার্লো। মিডল করিডরে তখন ঝাঁপ ফেলেছে মোরিয়াসুর জাপান। দুই প্রান্ত দিয়ে রায়ান ও ভিনিসিয়াস গার্ডারের মতো স্ট্রেচ করলেন জাপান ডিফেন্স। গ্যাব্রিয়েলের ঠিকানা লেখা সেন্টারে ছোঁ মেরে হেড কাসেমিরোর। অভিজ্ঞতা, অনুমান কাজে লাগিয়ে নিঃশব্দে ওত পেতে ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে ১০ টি গোল হয়ে গেল ডিফেন্সিভ মিডিওর। ডন কার্লো নিশ্চয়ই মুচকি হাসছেন। নিঃসন্দেহে এই ব্রাজিলে তিনিই সবচেয়ে বড় তারকা। সেলেকাও ডাগ-আউটে কার্লোই সত্যিইকারের ডন।