


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বাংলা শান্তি এবং সম্প্রীতির জায়গা। সব ধর্ম, জাতির মানুষ একসঙ্গে থাকি। এখানে সব ধর্মের সমস্ত অনুষ্ঠান পালন হয়। এটাই বাংলার পরম্পরা। সেটাই বজায় রাখতে হবে।’ বৃহস্পতিবার তক্তাঘাট ও দইঘাটে ছটপুজো উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমনই আবেগমথিত বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিকেলে ছটের শুভেচ্ছা জানাতে প্রথমে তক্তাঘাট ও পরে দইঘাটে যান মুখ্যমন্ত্রী। দু’জায়গাতেই তাঁর হিন্দিতে দেওয়া বক্তব্যের মর্মার্থ ছিল এই শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা। এদিন দু’জায়গাতেই মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি হাজির ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়, রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার সহ অন্যান্যরা।
প্রতিবারের মতো এবারও নির্ধারিত সময় ৪টের কিছু আগেই তক্তাঘাটে পৌঁছে যান মমতা। গাড়ি থেকে নেমে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে করতে গিয়ে মঞ্চে ওঠেন। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলার একাধিক ঘাটে ভার্চুয়ালি ছটের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন তিনি। সেখানে বক্তব্য রাখার পর মুখ্যমন্ত্রী সপার্ষদ দইঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে গিয়ে সূর্য মন্দিরে পুজো দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে ধীরেসুস্থে ছট পালনের পরামর্শ দেন মমতা। তাঁর আবেদন, ‘আপনারা ৩৬ ঘণ্টা উপোস থেকে অনেক কষ্ট করে পুজো দেন। জলে নেমে পুজো করতে হয়। তাই হুড়োহুড়ি করবেন না। একসঙ্গে বেশি লোক জলে নামার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। গ্রুপ করে পুজো করুন। ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ পরিকল্পনা করে দৌড়াদৌড়ি করবে। কেউ কিছু বললে শুনবেন না। সতর্ক থেকে পুজো করুন।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী ছট নিয়ে নিজের লেখা গানের দু’কলি শোনান। দইঘাটে নবরূপে তৈরি বজরঙ্গবলির মন্দির উদ্বোধন করেন মমতা। পুজোও দেন সেখানে।