নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো বলে তাঁর মত। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প জনজীবনে কতটা উন্নতি সাধন করেছে, তা তুলে ধরেছেন তিনি। রাজ্যপালের এহেন ভাষণের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্যপাল কেন অল্প সময় ভাষণ দিয়ে চলে গেলেন, তা নিয়ে পালটা সরকারপক্ষকে বিঁধেছে বিজেপি শিবির।
বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেট পেশ হয় বিধানসভায়। তার আগে ভাষণ দেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের ভাষণ শুরুর আগে স্লোগান যুদ্ধে তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার অধিবেশন। বিজেপি বিধায়করা ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পালটা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূলের বিধায়করা। এহেন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে বিধানসভায় ভাষণ শুরু করেন রাজ্যপাল। তিনি উল্লেখ করেন, কলকাতা ধারাবাহিকভাবে ভারতের সর্বাধিক নিরাপদ শহর হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পাশাপাশি আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান, দুয়ারে সরকার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐকশ্রী, শ্রমশ্রী সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের ভাষণের বইয়ে এও লেখা রয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত হয়ে পড়ে রয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। এই কাজ রাজ্য সরকার সম্পূর্ণরূপে নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং আগামী দু’বছরের মধ্যে ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
এদিন রাজ্যপাল মাত্র সাড়ে চার মিনিট ভাষণ দেন। যা নিয়ে বিজেপি শিবির বলার চেষ্টা করে, রাজ্যপাল সবটা বলতে চাননি। যদিও পরে আলোচনাচক্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যপাল যতটুকু পড়ার প্রয়োজন মনে করেন, ততটুকুই পড়েন, এটা প্রথা রয়েছে। বাকিটা তিনি উত্থাপন করেন। তাছাড়া বেলা ১টা ১৫ মিনিটে বিমান ধরার কথা ছিল রাজ্যপালের। তাঁর এই সফর পূর্ব নির্ধারিত ছিল।
এদিন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের তথ্য বিধানসভায় পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বিজেপি বিধায়করা অনুপ্রবেশ নিয়ে সরকারপক্ষকে পালটা আক্রমণ করেন। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএসএফ, সিআইএসএফ, কয়লা মন্ত্রক সহ সবাইকে জমি দিয়েছি। কিন্তু সীমান্তে বিএসএফের এক্তিয়ার ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে। আপনারা রুল বদলান। ১৫ কিমিতে ফিরিয়ে আনুন। বাদবাকি যেটুকু জমির প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করে দেব। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে মমতা বলেন, কেন্দ্রের সরকারকে বলুন, আমাদের প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা মিটিয়ে দিতে। তাহলে আপনাদের যা দাবি ও আবদার আছে, তা আমরা মেনে নেব।