নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে বৃষ্টির ভ্রূকূটি লক্ষ্য করা গিয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই তিন জায়গায় আকাশ মেঘলা ছিল। কোথাও কোথাও দু’-এক পশলা বৃষ্টিও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চাষিরা মাঠ থেকে পাকা ধান তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কম সময়ে উচ্চ ফলনশীল ধান বর্তমানে পেকে গিয়েছে। সেই ধান তুলে চাষিরা আলু সহ অন্যান্য রবি ফসলের চাষ করেন। এই সময় সাধারণত ঘূর্ণিঝড় হয় না। ফলে চাষিরা নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তোলেন। তবে এবার ‘অর্ণব’ সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিতে পারে বলে চাষিরা আশঙ্কা করছেন। সেই কারণে তাঁরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিন সকালের দিকে বাঁকুড়ায় সূর্যদেবের দেখা পাওয়া গেলেও দুপুরের পর আকাশে মেঘের ঘনঘটা লক্ষ্য করা যায়। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কার্তিক মাসে জেলাবাসীর গলদঘর্ম অবস্থা হয়। দিনের তাপমাত্রা বেশকিছুটা বেড়ে যায়। বিকেল ৫টা নাগাদ বাঁকুড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় দমকা হাওয়া বয়ে যায়। সেইসঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হয়। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুর্যোগের প্রকোপ কমলেও প্রকৃতির ‘মুড’ খুব একটা ভালো ছিল না। সন্ধ্যার মুখে ফের আকাশে কালো মেঘ জমতে দেখা যায়। বাঁকুড়া সদরের পাশাপাশি খাতড়া ও বিষ্ণুপুর মহকুমার ব্লকগুলিতেও ওই চিত্র ধরা পড়ে।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ফলে আমরা ব্লকগুলিতে সজাগ থাকতে বলেছি। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিডিও অফিসে পর্যাপ্ত ত্রিপল মজুত করা হয়েছে।
তালডাংরার ইন্দকাটা গ্রামের বাসিন্দা শিবশঙ্কর পাল বলেন, প্রায় আঠারো বিঘা জমিতে দানার গুড়ি ধান চাষ করেছি। মাঠে সব ধান বর্তমানে পড়ে আছে। লাগানোর সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য ধান চাষে বিমা করা যায়নি। তবে অর্ণবের যে প্রভাব শুরু হয়েছে মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। অর্ণবের প্রভাব যদি হালকাও পড়ে তাহলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার পুরুলিয়া শহরে অর্ণবের বিশেষ কোনো প্রভাব দেখা যায় গেল না। সন্ধ্যা নাগাদ এক দুই মিনিটের জন্য সামান্য ঝড় হলেও বৃষ্টি হয়নি। তবে পুরুলিয়া শহরের বাইরে একাধিক গ্রামীণ এলাকায় বিকেলের পর বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাগমুন্ডি এলাকার চাষি কাশীনাথ মাহাতো বলেন, এদিন হালকা ঝোড়ো হাওয়া এবং খুব সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। মাটিও সেভাবে ভেজেনি। তবে বেশি বৃষ্টি হলে বড়োসড়ো ক্ষতি হয়ে যাবে। সমস্ত ধান গাছ থেকে ঝড়ে পড়বে।
অর্ণবের আংশিক প্রভাব পড়ল আরামবাগ মহকুমাতেও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরামবাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়। তারসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। ঝড় ও বৃষ্টি নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। আরামবাগের এক চাষি গৌতম মালিক বলেন, ধানজমিতে জলের প্রয়োজন রয়েছে। সেইজন্য সেচ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এদিন সন্ধ্যায় কিছু পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। তবে বেশি বৃষ্টি ও ঝড় হলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আরামবাগ মহকুমায় অর্ণবের ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।



