


তেহরান: ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সারা বিশ্বে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এরজন্য ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখাকেই দায়ী করা হয়েছে। শনিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল ছাড়া হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য খোলা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আসলে হরমুজ খোলাই রয়েছে। কেবল শত্রু দেশ এবং আমাদের সহযোগী দেশগুলিকে যারা আক্রমণ করে, তাদের জন্যই এই প্রণালী বন্ধ। অন্যরা এই প্রণালী নির্ভয়ে ব্যবহার করতে পারে।’
পারস্য সাগর এবং ওমান সাগরের মধ্যে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক তৈল বাণিজ্যের বেশিরভাগটাই হয়ে থাকে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার তৈলবাহী ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বহু ভারতীয় ট্যাঙ্কারও। এ প্রসঙ্গে আরাগাছি বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কা থেকেই এগুলি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনো যোগ নেই। হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখন বহু ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ পার হচ্ছে।’ ইজরায়েল-আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে ইরান কি রাশিয়া এবং চীনের সেনা এবং গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে? সরাসরি এই প্রশ্ন এরিয়ে গিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর সাবধানী মন্তব্য, ‘রাশিয়া এবং চীন আমাদের কৌশলগত সহযোগী। অতীতে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। এখনও সেই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে।’
এদিকে, পেট্রোডলারের বাড়বাড়ন্তের ইতি ঘটাতে উদ্যোগী ইরান। চীনা মুদ্রা ইউয়ানে ব্যবসা করতে সম্মত দেশগুলির তৈলবাহী ট্যাঙ্কারকেই একমাত্র হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে দেবে তারা। এমনটাই নাকি তেহরান চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। এক প্রবীণ ইরানি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।