Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বন্ধ দোকানপাট, শুনশান রাস্তা, পালাবদলের আঁচে আতঙ্কিত কলকাতা

আচমকাই যেন বদলে গিয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, জোড়াসাঁকো, বিধান সরণির চেহারা। ফুটপাতের চেনা দোকানগুলি উধাও

বন্ধ দোকানপাট, শুনশান রাস্তা, পালাবদলের আঁচে আতঙ্কিত কলকাতা
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আচমকাই যেন বদলে গিয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, জোড়াসাঁকো, বিধান সরণির চেহারা। ফুটপাতের চেনা দোকানগুলি উধাও। বিধান সরণির শ্রীমানী মার্কেটের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘নির্বাচনের ফল বেরনোর পর রোজ ঝঞ্ঝাট, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। কর্মীরা দোকানে আসতে ভয় পাচ্ছেন। সে কারণেই দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই কার্যত লাটে উঠেছে ব্যবসা।’ 

Advertisement

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে রামমন্দির, গিরিশ পার্ক অঞ্চলে রাস্তার দু’ধারে যে সমস্ত স্থায়ী দোকান আছে সেগুলির অনেকগুলিই অবশ্য খোলা আছে। কিন্তু ফুটপাতের চেনা চেহারাটা উধাও। পসরা জমিয়ে স্টল বানিয়ে যারা ব্যবসা চালাতেন তারা ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন। খোলা পড়ে রয়েছে স্টল। কোথাও জিনিসপত্র প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শহরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিজয় মিছিলে বুলডোজার দেখা দিয়েছে। তার মাথায় উঠে উচ্ছ্বাস দেখাতে দেখাতে বিজয় মিছিল করেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। নিউ মার্কেটে ফুটপাতে এবং রাস্তার ধারে তৈরি হওয়া হকারদের স্টল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। সেই আতঙ্কই যেন তাড়া করে চলেছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর হকারদের। মহাজাতি সদনের সামনে থেকে গিরিশ পার্ক পর্যন্ত এবং তারপর প্রায় শোভাবাজার পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে ফুটপাতে হকারদের স্টল কার্যত খালি। প্লাস্টিকের আস্তরণ, কাপড়ের ছাউনি, ব্যবসার জিনিসপত্র কিছুই প্রায় নেই। সবমিলিয়ে যেন ভাঙা হাট। এক হকার বললেন, ‘এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছে, এখানে ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না। দুষ্কৃতীরা এসে ঝামেলা করছে। সেই ভয়েই কেউ স্টল বসায়নি। এভাবে ব্যবসা বন্ধ থাকলে পেট কিভাবে চলবে জানি না।’ অন্যদিকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি চত্বরেও এক ছবি। বিভিন্ন দোকান বন্ধ। বিধান সরণির শ্রীমানী মার্কেট অঞ্চল শুনশান। শাটার নামানো সব দোকানের। শুনসান পথঘাট। দোকানপাট সব বন্ধ। এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। কয়েকজন শুধু বললেন, ‘এখানে অনেকে বাইরে থেকে কাজ করতে আসেন। ফল ঘোষণার পর যেভাবে ঝামেলা হচ্ছে, কোনো কোনো দোকানে এসে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সেই ভয়ে কর্মীরা আসছেন না। মালিকপক্ষও দোকান খুলছে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ