নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা প্রদীপ তৈরির মাটিতেও। সেইসঙ্গে রং, খড়, সুতলি সহ অন্যান্য সরঞ্জামের মতোই বেড়ে গিয়েছে প্রদীপ তৈরির মজুরিও। এই অবস্থায় চলতি বছর এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে মাটির প্রদীপ তৈরি। স্বাভাবিকভাবেই দীপাবলির আগে মাটির প্রদীপ বিক্রিতে রোজগার কমে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করলেন রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জের একাংশ মৃৎশিল্পী। তাঁদের দাবি, মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় প্রদীপ তৈরি কমেছে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। দীপাবলির আগে মাঝে আর মাত্র ক’দিন। রয়েছে ধনতেরস, দীপাবলি ও ছটপুজো। এর মধ্যেই রঙিন রোশনাইয়ে ধীরে ধীরে সেজে উঠতে শুরু করেছে সর্বজনীন কালীপুজোর মণ্ডপ থেকে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর। আলোর উৎসবে মাততে চলেছে সকলে। কিন্তু এবার কালীপুজোর আগে মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে রায়গঞ্জের মৃৎশিল্পীদের মধ্যে। সুভাষগঞ্জ পালপাড়ার মৃৎশিল্পী প্রাণজিৎ পাল বলেন, গত বছরেও এক ট্রলি মাটি কিনেছি দেড় থেকে দু’হাজার টাকায়। এবার সেই মাটি কিনতে লেগেছে চার হাজার টাকা। আবার পর্যাপ্ত মাটি পাওয়াও যায়নি। কারণ যাঁরা বিন্দোল, ঝিটকা, শঙ্করপুর থেকে আমাদের মাটি সরবরাহ করেন, তাঁরা বেশি দামে সংগ্রহ করে মাটি বিক্রিতে উৎসাহ হারাচ্ছেন। মাটির দাম বেড়ে যাওয়ার পিছনে অবশ্য আরও একটি কারণ উঠে এসেছে। তা হল বর্তমানে সরকারি নিয়ম মেনে রয়্যালটি দিয়ে মাটি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যা আগে দিতে হচ্ছিল না। আর তাতেই চড়ছে মাটির দাম। আগের বছর আমরা পাইকারি হিসেবে ৫০০ টাকায় হাজার প্রদীপ বিক্রি করেছি। এবার হাজার প্রদীপের দাম ৭০০ টাকা। আবার রংবেরংয়ের প্রদীপের ডিজাইন ও আকারের ভিত্তিতে কোনোটি প্রতি পিস দুই থেকে পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।



