Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একঘণ্টার আইসি দশমের ছাত্রী! চেয়ারে বসেই ফেরাল খোওয়া যাওয়া মোবাইল

একঘণ্টার আইসি। পুলিস ডে’তে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার ইনচার্জ হওয়ার সুযোগ পেল দশমের ছাত্রী প্রিয়দত্তা গুহ। আইসি’র চেয়ারে বসেই ফিরিয়ে দিল হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন।

একঘণ্টার আইসি দশমের ছাত্রী! চেয়ারে বসেই ফেরাল খোওয়া যাওয়া মোবাইল
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: একঘণ্টার আইসি। পুলিস ডে’তে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার ইনচার্জ হওয়ার সুযোগ পেল দশমের ছাত্রী প্রিয়দত্তা গুহ। আইসি’র চেয়ারে বসেই ফিরিয়ে দিল হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন। পদক্ষেপ নিল হারানো বার্থ সার্টিফিকেট নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার বিষয়ে। এমনকী মোবাইল হারিয়ে গেলে থানায় এসে কী করতে হবে, এক ব্যক্তিকে তা নিজেই শিখিয়ে দিল ওই ছাত্রী। শুধু তাই নয়, রাতের শহরকে আরও সুরক্ষিত করতে সে ‘নির্দেশ’ দিল থানার আধিকারিকদের। তার এই ভূমিকার প্রশংসা করলেন দুঁদে পুলিস অফিসাররা। 

Advertisement

সোমবার ছিল পুলিস ডে। এই উপলক্ষ্যে একঘণ্টার জন্য জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি’র ‘দায়িত্ব’ দেওয়া হয় শহরের একটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের ছাত্রী প্রিয়দত্তাকে। বড় হয়ে পুলিস অফিসার হতে চায় সে। সেকারণে পুলিসের কাজকর্ম সম্পর্কে জানাতেই এদিন তাকে কিছু সময়ের জন্য থানার ইনচার্জের চেয়ারে বসানো হয় বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিসকর্তারা। 
জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, অন্যান্য পেশার মতো পুলিসও একটি পেশা। যে পেশায় অনেক বেশি দায়িত্ববান হতে হয়। পুলিস কী কাজ করে, থানা কীভাবে চলে, সেসব নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এদিন দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একঘণ্টার জন্য আইসি’র চেয়ারে বসানো হয়। সে পুলিসের কাজকর্ম সম্পর্কে কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে। আইসি বলেন, কেউ একজন কোনও সমস্যা কিংবা অভিযোগ নিয়ে এলে, পুলিস কীভাবে তার সমাধান করে, সেটা এদিন ওই ছাত্রী নিজেই করেছে। আমাদের মূল লক্ষ্য, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা যাতে বড় হয়ে পুলিস হতে চায়, সেসম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করা। একইসঙ্গে পুলিসকে কী ধরনের কাজ করতে হয়, কতটা দায়িত্ব পালন করতে হয়, সেটা কিছুটা হলেও বোঝানো। 
একঘণ্টার জন্য আইসি’র দায়িত্ব পেয়ে কীভাবে প্রিয়দত্তা থানা চালায়, তা দেখতে এদিন এসেছিল তার সহপাঠীরাও। হাজির ছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপাল সিস্টার নিশা। পুলিসের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তিনি। এদিন পুলিসের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্যুইজের আয়োজন করা হয়। ছিল পুরস্কারও। সবমিলিয়ে ‘পুলিসকাকু’দের সঙ্গে দিনটা অন্যরকমভাবে কাটায় ছাত্রছাত্রীরা। 
আইসি’র চেয়ারে বসে জলপাইগুড়ি শহরের শান্তিপাড়ার বাসিন্দা প্রিয়দত্তা বলে, এদিন প্রথম থানায় পা রাখলাম। আইসি’র চেয়ারে বসে নিজেকে একটু নার্ভাস লাগছে ঠিকই। পুলিসের অনেক ফাইলপত্র দেখলাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সারাবছর ধরে পুলিস অনেক সামাজিক কাজ করে থাকে। সেসবও দেখেছি। বড় হয়ে পুলিস অফিসার হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছে ছিল। এদিন আইসি’র চেয়ারে বসে একঘণ্টা কাটানোর পর সেই ইচ্ছেটা অনেকটাই বেড়ে গেল।  নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ