নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার পাটুলি থানার বৃজি পূর্বপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। মৃতার নাম শিবানী দাস (১৬)। মঙ্গলবার বেলা সওয়া ১টা নাগাদ আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে বৃজি পূর্বপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছর ষোলোর শিবানী স্থানীয় বৃজি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বৃজি পূর্বপাড়ায় তাদের টালির ঘর। বাড়িতে বাবা-মা ছাড়াও রয়েছেন এক দাদা। পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় সোমবার রাতে শিবানীকে বকাবকি করেন তার মা শিখা দাস। এমনকি, শিখাদেবী বান্ধবী-সঙ্গ নিয়েও মেয়েকে তাঁর আপত্তির কথা জানান। যা নিয়ে ওই রাতে মায়ের সঙ্গে মেয়ের একপ্রস্থ ঝগড়া হয়।
সেই রাতে বিষয়টি তখনকার মতো মিটে যায়। এখন গরমের কারণে সরকারি নির্দেশে স্কুল বসছে সকালে। সেইমতো মঙ্গলবার আর পাঁচটি দিনের মতো সকালেই যথারীতি স্কুলে যায় শিবানী। সেখানে তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল বলেই জানা গিয়েছে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর পোশাক বদলের নাম করে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় সে। তারপর সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ওড়না জড়িয়ে ফাঁস দেয় ওই ছাত্রী। মেয়ে বেশ কিছুক্ষণ দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় বাবা-মায়ের। তাঁরা বারবার ডাকাডাকি করলেও সাড়া দেয়নি মেয়ে। এরপর বাধ্য হয়ে ঘরের দরজা ভেঙে দেখা যায়, সিলিং ফ্যান থেকে ফাঁস দিয়ে ঝুলছে শিবানী! তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পাটুলি থানার পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় তেমন কোনো অসঙ্গতি মেলেনি। ঘটনাস্থলে দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়েও কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি বলে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি স্থানীয় পাটুলি থানায়। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পাটুলি থানার পুলিশ।