সংবাদদাতা, কাঁথি: মন্দারমণির পর এবার তাজপুর। সমুদ্রস্নানে নেমে মৃত্যুর ঘটনায় দাঁড়ি পড়ছেই না। মঙ্গলবার দুপুরে রামনগরের পর্যটন কেন্দ্র তাজপুরে সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে এলাকারই এক ছাত্রের মৃত্যু হল। আরও দু’জনকে কোনোরকমে উদ্ধার করা হয়েছে। মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শুভজিৎ পণ্ডা(১৮)। বাড়ি রামনগর থানার বাদলপুর পঞ্চায়েতের থিয়ার এলাকায়। সে স্থানীয় একটি হাইস্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। এবছর তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। সমুদ্রস্নানে নেমে এভাবে একের পর এক মৃত্যুতে প্রশাসন ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, থিয়ার সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আটজন বন্ধু মিলে এদিন তাজপুরে বেড়াতে আসেন। তাঁরা তাজপুরের মল্লিকা বিচ সংলগ্ন সমুদ্রে স্নানে নামেন। জায়গাটি স্নানের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হওয়ায় কর্তব্যরত নুলিয়ারা তাঁদের সমুদ্র থেকে তুলে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ওই শুভজিৎ সহ দুই যুবক নুলিয়াদের নজর এড়িয়ে পুনরায় সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। বর্তমানে ‘অর্ণব’ এর প্রভাবে সমুদ্র এমনিতেই উত্তাল। তার উপর তাজপুর সৈকতের ওই অংশে স্নানে কড়াকড়ি রয়েছে। স্নানের সময় তাঁরা সামনে গভীরের দিকে এগিয়ে যান। এরপরই একটি বড় ঢেউয়ের তোড়ে তিনজনই তলিয়ে যেতে থাকেন। নুলিয়ারা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দু’জনকে উদ্ধার করলেও শুভজিৎ তলিয়ে ভেসে যায়। ঘণ্টাখানেক তল্লাশি চালানোর পর শুভজিতের দেহ উদ্ধার হয়। তাকে স্থানীয় বড়রাঙ্কুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়ে দেন, অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে বাকি দুই যুবকের মধ্যে সবুজবরণ সাউ অসুস্থ থাকায় তাঁকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ বিকাশচন্দ্র জানা নামে আর এক যুবক বর্তমানে স্থিতিশীল। তাঁদের বাড়িও থিয়ার এলাকায়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।
কয়েকদিন আগে মন্দারমণিতে স্নান করতে নেমে হাওড়ার ডোমজুড়ের বাসিন্দা শ্যালক ও ভগ্নিপতির দেহ উদ্ধার হয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনা। ওসি চন্দন প্রসাদ বলেন, সৈকতে সবসময় পুলিশি নজরদারি থাকে, নুলিয়ারাও মোতায়েন থাকেন। তবে অনেকেই নজরদারি কিংবা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে, বেপরোয়াভাবে হয়ে বিপদ ডেকে আনছেন। আমরা এই ঘটনার পর নজরদারি আরও জোরদার করছি। বাদলপুর পঞ্চায়েতের প্রধান আশিস গিরি বলেন, এলাকার বাসিন্দা হয়েও সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে ওই স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। আমরা মৃত ছাত্রের বাড়িতে যাব।



