পদ্ম অনুগামী শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে গেরুয়া কোন্দল
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: খনি অঞ্চলে ফের প্রকাশ্যে গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠী কোন্দল। এবার কোলিয়ারিতে শ্রমিক সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মারপিট ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ল বিজেপিরই দু’টি গোষ্ঠী। স্বাভাবিক ভাবে কোলিয়ারির দখল নিয়ে শাসক শিবিরের দ্বন্দ্বে আতঙ্ক বাড়ছে শ্রমিক মহলে। 

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পরই শিল্পাঞ্চলজুড়ে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের। ওইঙ সংগঠনের সকলেই নিজেদের বিজেপি নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। রবীন্দ্র ভবনে রাজ্য সম্মেলনও করেছে। কোলিয়ারিতে এই শ্রমিক সংগঠন অনুমোদিত একটি শ্রমিক ইউনিয়ন তৈরি হয়েছে। যার নাম ভারতীয় কয়লা মজদুর মঞ্চ। যার কেন্দ্রীয় সভাপতি শিবদাস বাউরি। তাঁরা বৃহস্পতিবার জামুড়িয়া থানার কুনুস্তোড়িয়া কোলিয়ারির ২ নম্বর পিটে মিটিং করছিল। কিছু পরেই বিএমএস ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বর সঙ্গে তাঁদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। কথা কাটাকাটির পাশাপাশি দু’টি গোষ্ঠীর নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রবল ধস্তাধস্তি হয়। শিবদাস বাউরির পাঞ্জাবি ছিড়ে দেওয়া হয়। সিআইএসএফ ও জামুড়িয়া থানার পুলিশ এসে কোনোরকমে পরিস্থিতি শান্ত করে। কোলিয়ারির পিট অর্থাৎ খনি মুখেই গেরুয়া শিবিরের এই অশান্তিতে সাধারণ শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শ্রমিক স্বার্থ দূরে থাক, কারা আসল বিজেপি তা প্রমাণেই ব্যস্ত সকলে। 
কোলিয়ারির বিএসএসের সম্পাদক রাজা সিং বলেন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছে, তাদের কোনো শ্রমিক সংগঠন নেই। তাহলে এরা বিজেপি নেতাদের ছবি নিয়ে কেন মিটিং করছে। মিটিং করলেও ঠিক আছে, কেন তারা শ্রমিকদের কাজে যেতে বাধা দিচ্ছে। কোলিয়ারির উৎপাদন কমে গিয়েছে। কাজ না হলে কোলিয়ারি বন্ধ হয়ে যাবে। সেটাই কি এরা চায়? আমরা তারই প্রতিবাদ করেছি। বিজেপি মণ্ডল কোষাধ্যক্ষ অরুণকুমার প্রসাদ বলেন, ওরা বিজেপির শ্রমিক সংগঠন হলে স্থানীয় বিজেপি নেতারা কেন কিছু জানে না। এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সরকার গঠনের আগে এরা কোথায় ছিল? এরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠন করছে। এরা তৃণমূলের দালাল। সংগঠনের সভাপতি শিবদাস বাউরি বলেন, এখানে বিজেপিই বিজেপিকে মারছে। আমি ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি করছি। ১৬টা মামলা খেয়েছি। আমরা কোলিয়ারিতে সংগঠন মজবুত করতে চাইছি। এরা তাতে বাধা দিচ্ছে। আমরা শ্রমিকদের কাজে যেতে বাধা দিচ্ছিলাম না। মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমাকে মারধর করা হয়েছে। 
শিল্পাঞ্চলে বার বার প্রকাশ্যে আছে শাসক শিবিরের গোষ্ঠী কোন্দল। অনেকের দাবি, কারখানা ও কোলিয়ারির মধুভাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পেতেই গেরুয়া শিবিরের নেতাদের ম঩ধ্যে ইঁদুর দৌড় শুরু হয়েছে। আর কোলিয়ারিতে কী পরিমাণ মধুভাণ্ড আছে, তা তো প্রকাশ্যে এনে দিয়েছেন বিজেপির বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিই। তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়েছে, শ্রমিক নেতারা সেফটি মিটিংয়ে গিয়ে ২-৪ লক্ষ টাকা আয় করছেন। তা থেকেই পরিষ্কার, কী পরিমাণ কাঁচা টাকার খেলা হচ্ছে কোলিয়ারিগুলিতে।