Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিশ ও আইনজীবীদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত বারাসত আদালত, মাথা ফাটল পুলিশের

পুলিশ ও আইনজীবীদের সংঘর্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বারাসত জেলা আদালত। হেলমেটের আঘাতে মাথা ফাটল এক পুলিশকর্মীর।

পুলিশ ও আইনজীবীদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত বারাসত আদালত, মাথা ফাটল পুলিশের
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পুলিশ ও আইনজীবীদের সংঘর্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বারাসত জেলা আদালত। হেলমেটের আঘাতে মাথা ফাটল এক পুলিশকর্মীর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। বেনজির এই ঘটনায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

Advertisement

সোমবার সন্ধ্যায় বারাসত আদালতের আইনজীবী দুলাল সরকার সহ অন্যান্যরা একটি চার চাকা গাড়িতে করে দত্তপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন কাজিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি পেট্রল পাম্পে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বচসা হয় তাঁদের। অতর্কিতে দুষ্কৃতীরা দুলাল সহ অন্যদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। তড়িঘড়ি তাদের বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দত্তপুকুর থানায় আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ধৃত তিনজনকে বারাসত আদালতে তোলা হলে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই নির্দেশের পর ধৃত তিনজনকে এদিন বিকেলে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় শোরগোল পড়ে। আইনজীবীদের একটি বড় অংশ আচমকা ধৃত তিনজনের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
বারাসত থানার পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে আইনজীবীদের একাংশ পুলিশের এএসআই সুপ্রিয় ভদ্রের উপর চড়াও হয়। রক্তাক্ত হন সুপ্রিয়বাবু। তাঁকে কোনওরকমে উত্তেজিত আইনজীবীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন বারাসত বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অলোক সমাজপতি। একইসঙ্গে খণ্ডযুদ্ধের ছবি তুলতে গিয়ে জখম হয়েছেন এক পোর্টালের সাংবাদিক দীপ সেন। দু’জনেরই চিকিৎসা করানো হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো তেতে ওঠে এলাকা।
এ বিষয়ে বারাসত বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অলোক সমাজপতি বলেন, সোমবার রাতে আমাদের একজন আইনজীবী দুষ্কৃতীদের হাতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হন। তিনজনকে দত্তপুকুর থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। এদিন আদালতে তোলা হলে প্রত্যেকের সাতদিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। তবে, পুলিশের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ নিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, বারাসত আদালতের আইনজীবীদের হেনস্তার ঘটনায় প্রথমে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর আইনজীবীদের কথা মতো আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন তিনজনকে আদালতে তোলা হয়েছিল। তাদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে ধৃতদের হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। আর তা রুখতে গিয়ে একজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ