Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বাংলায় গো বলয়ের সংস্কৃতির ঠাঁই নেই’ ঘুরিয়ে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যানের আরজি সুশীল সমাজের

গো বলয়ের রাজনীতি কায়েমের আশঙ্কা! তাই শিলিগুড়িতে ভোটের ময়দানে নাগরিকদের সচেতন করতে গর্জে উঠল সুশীল সমাজ

‘বাংলায় গো বলয়ের সংস্কৃতির ঠাঁই নেই’ ঘুরিয়ে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যানের আরজি সুশীল সমাজের
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: গো বলয়ের রাজনীতি কায়েমের আশঙ্কা! তাই শিলিগুড়িতে ভোটের ময়দানে নাগরিকদের সচেতন করতে গর্জে উঠল সুশীল সমাজ। তাতে অধ্যাপক, প্রধান শিক্ষক, নাট্যকার, সাস্কৃতিক কর্মী, সাহিত্যিক,  আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক সহ সর্বস্তরের গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিক রয়েছেন। তাঁরা গো বলয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলায় ঠাঁই না দেওয়ার দাবি তুলেছেন। সেই সঙ্গে এসআইআরের অছিলায় নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের প্রতিবাদও করেছেন। রবিবার তাঁরা এ বিষয়ে শহরে বিলি করেছেন প্রায় ৩০ হাজার লিফলেট। শহরে কয়েকশো প্ল্যাকার্ডও ঝুলিয়েছেন। আজ, সোমবার শহরের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে জমায়েত করবেন তাঁরা। সমগ্র  পরিস্থিতি নিয়ে শহরের রাজনৈতিক ময়দান সরগরম। 

Advertisement

সুশীল সমাজ জানিয়েছে, ভোটদানের বিষয়টি নাগরিকদের নিজস্ব। তাই সেই বিষয়ে কোনো কথা বলা হচ্ছে না। তবে ধর্মনিরপেক্ষতায় আঘাতের প্রতিবাদ, গো বলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রোখার, সমস্ত নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করার আর্জি লিফলেটে জানানো হয়েছে। এনিয়েই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, ভোটের ময়দানে কার্যত ঘুরপথে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যানের আর্জি জানিয়েছে সুশীল সমাজ। শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষের নির্বাচনি এজেন্ট অমিত জৈন পালটা বলেন, শিলিগুড়িকে পিছিয়ে দিতে তৃণমূল ও সিপিএমের মদতে চক্রান্ত করছে সমাজের একাংশ। 
ওই লিফলেট গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের নাম করে প্রকাশ করা হয়েছে। যার প্রকাশক শংকর পাল। তাতে প্রায় ৮০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম ছাপা আছে। যারমধ্যে অধ্যাপক পার্থসারথি দাস, অজিতকুমার রায়, সঞ্জয় রায়, সুতপা সাহা, লেখক সৌমেন নাগ, সাহিত্যিক গৌরীশংকর ভট্টাচার্য, সাহিত্যিক বিপুল দাস, সাহিত্যিক সেবন্তী ঘোষ, লেখক রতন বিশ্বাস, নাট্যকর্মী পার্থপ্রতিম মিত্র, পার্থ চৌধুরী, সমাজ ও পরিবেশকর্মী অনিমেষ বসু প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। 
লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সংবিধানের ধর্ম নিরপেক্ষতাই আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তিভূমি। বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের পাঠ দিই। মনোভূমিতে এই আদর্শ লালন করেই বাংলার কবি কবিতা লেখেন, সাহিত্যিক সাহিত্য চর্চা করেন, শিল্পীরা গান গায়, ছবি আঁকে। যদি কোনো দল বা প্রার্থী এই বিশ্বাসে আঘাত করত চায় তা প্রতিরোধ করাই আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। আমাদের আশঙ্কা, বাংলা বাঙালির ঐতিহ্যের পরিপন্থী গো বলয়ের নিকৃষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এই নির্বাচনে আমদানি করা  হচ্ছে। নির্বাচন আর গণতন্ত্রের উৎসব থাকছে না। সহ নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার এসআইআরের অছিলায়  লুণ্ঠিত  হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। বাংলার রাস্তায় কাশ্মীরের উগ্রপন্থী দমনের সাঁজোয়া  গাড়ি দেখে আমরা চিন্তিত। লাখ লাখ আধাসামরিক বাহিনীর ভারী বুটের আওয়াজে হারিয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের কলরব। পশ্চিমবঙ্গে কি অভূতপূর্ব ক্ষমতা লুটের রাজনীতিতে  বলি হতে যাচ্ছে আমাদের সবধরনের রাজনৈতিক অধিকার?’ 
নাট্যকর্মী পার্থ মিত্র বলেন, বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিরোধী যে কোনো বক্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, জাত নয়-ধর্ম নয় কর্মসংস্থান ইস্যুতে কর্মসূচি জানতে চাওয়া, নারী সুরক্ষার কর্মসূচি প্রভৃতি সহ আট দফা প্রস্তাব লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করার আর্জি নাগরিকদের কাছে জানানো হয়েছে। গো বলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলায় কাঙ্খিত নয়। এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেও আমরা শহরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে শতাধিক প্ল্যাকার্ড লাগিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ