Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩০ ডিগ্রি পার, মাঝ ফেব্রুয়ারিতে ঘাম মুছছে শহর

মল্লিকবাজার মোড়ে বেসরকারি হাসপাতালের জায়ান্ট স্ক্রিন জানাচ্ছে, দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

৩০ ডিগ্রি পার, মাঝ ফেব্রুয়ারিতে ঘাম মুছছে শহর
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মল্লিকবাজার মোড়ে বেসরকারি হাসপাতালের জায়ান্ট স্ক্রিন জানাচ্ছে, দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ তা দেখেই অনেকে তীব্র গরমের দিনগুলির কথা ভেবে প্রমাদ গোনা শুরু করলেন। ততক্ষণে রোদ চড়া। শহরবাসীর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোঁটা জমা শুরু হয়েছে। তারপর সন্ধ্যায় আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য জানালো, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এদিন ছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন ১৭.৪ ডিগ্রি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৩ ডিগ্রি কম থাকলেও সর্বোচ্চ ছিল ০.৪ ডিগ্রি বেশি। তার উপর চড়া রোদ।  

Advertisement

শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনও ২০ ডিগ্রির নীচে বলে রাতের দিকটা একটু আরামদায়ক। পাখা না চালিয়েও ঘুমনো যাচ্ছে। কয়েকজন অল্পস্বল্প পাখা চালাচ্ছেন রাতে। কিন্তু দুপুরে সিলিং ফ্যান চালাতেই হচ্ছে। আর ঘরের বাইরে রোদের তেজ ঘাম ঝরিয়ে দিচ্ছে সবার। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শুক্রবার পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। তার পরবর্তী চারদিন ধীরে ধীরে রাত্রিকালীন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ১ থেকে ২ ডিগ্রি বাড়বে বলেই অনুমান। অর্থাত্ রাতের স্বস্তিও যে আর বেশিদিন থাকবে না তা একপ্রকার পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। 
কলকাতার পাশে সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়ে এদিন ছিল ১৮.৭ ডিগ্রি। বারাকপুর, ক্যানিং, উলুবেড়িয়া, বসিরহাট, কল্যাণীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রির আশপাশেই ছিল। ডায়মন্ডহারবার আর দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। খাতায়কলমে তাপমাত্রার পারদ যেদিকেই থাকুক, সকাল থেকে কলকাতার আকাশে কিন্তু চড়া রোদ। পথচলতি মানুষ বলছেন, ‘এখনও পর্যন্ত রোদ জ্বালা ধরাচ্ছে না ঠিকই। কিন্তু রোদের তাপে ঘাম ঝরার দিন দেখছি চলেই এল।’ রোদের তেজ অতটা বেদনাদায়ক হবে না ভেবে যাঁরা খালি হাতে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন এমন লোকজনের বক্তব্য, ‘একটা ছাতা নিয়ে বের হলে ভালোই হত। এই চড়া রোদে বেশিক্ষণ খালি মাথায় থাকা যাচ্ছে না।’ কেউ রসিকতা করে বলছেন, ‘আমাদের তো ৪০ ডিগ্রিতেও রাস্তায় হাঁটার অভ্যাস!’
তবে মফস্‌সল থেকে যাঁরা এ঩দিন কলকাতায় এসেছেন, তাঁরা পড়েন বেশ সমস্যায়। কারণ, ব্যাগ ভর্তি করে গরমজামা নিয়ে শহরে আসছেন তাঁরা। কাকদ্বীপের এক বাসিন্দার কথায়, ‘আমরা তো সকালে বেরিয়ে দুপুরের দিকে শহরে আসি। এখানে এসে গরমজামা গায়ে রাখা যায় না। এমনিতেই ঘামছি। অথচ বাড়ি ফেরার সময় রাত হয়ে যায়। তখন সোয়েটার পরতে হয়। ট্রেনে যাওয়ার সময় বেশ ঠান্ডা।’ 
তবে গরম সবে শুরু হল। আগামী দিনগুলি তা বাড়বে। তার দাপট কমার আর কোনও সম্ভাবনা দেখছে না আলিপুর হাওয়া অফিস। আগামী দিনগুলি ধীরে বাড়তেই থাকবে গরম। তা ক্রমে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এখনই অতিরিক্ত সাবধানীরা নাক-মুখ কাপড়ে ঢেকে, রোদচশমা চোখে রাস্তায় বেরচ্ছেন। আখের রস কিংবা লেবুজলের চাহিদা বাড়ছে। সবমিলিয়ে কলকাতা এপ্রিল-মে মাসের জ্বলতে থাকা গরমের জন্য কোমরবাঁধা শুরু করে দিয়েছে। ক্রমে এগিয়ে আসছে সে অসহ্য গ্রীষ্ম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ