Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিআইডিতে গরহাজির অভিষেক, আবার পাঠানো হল তলবি নোটিস

তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডিতে হাজির হননি, তদন্তে নতুন নোটিস পাঠানো হয়েছে। কি ঘটছে? বিস্তারিত পড়ুন।

সিআইডিতে গরহাজির অভিষেক,  আবার পাঠানো হল তলবি নোটিস
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভায় সই জালকাণ্ডে আরও বিপাকে পড়তে চলেছেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্টে মামলা রয়েছে—এই অজুহাতে সোমবার ভবানীভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজির হননি তিনি। অভিষেক চিঠি দিয়ে একথা জানালেও তাঁকে আর কোনোভাবেই সময় দিতে রাজি নয় তদন্তকারী সংস্থা। আজ মঙ্গলবার ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে বিকেল ৫টায় ভবানীভবনে হাজির হতে বলে ফের নোটিস পাঠিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে এবারও তিনি যদি না আসেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেই রাজ্য প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। 

Advertisement

বিধানসভায় সই জালকাণ্ডের তদন্তে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে চার বিধায়ক ব্যাঙ্কশালে বিচারকের সামনে এসে হাতের লেখার নমুনা দিয়ে গিয়েছেন। এক বিধায়ক তো সিআইডিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বৈঠকে উপস্থিতই ছিলেন না! তাঁর সই জাল করা হয়েছে। 
এই মামলার তদন্তে এসব সিআইডির কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারী অফিসারদের বক্তব্য, এখান থেকেই বোঝা যায় নিশ্চিতভাবেই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। কে এই সই নকল করেছেন, তাও চিহ্নিত করে ফেলেছেন তাঁরা। এই সমস্ত কারণে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে জেরা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে তদন্তকারীদের কাছে। তা না-হলে জানা সম্ভব নয় জালিয়াতি কীভাবে হল? আর এই জালিয়াতির বিষয়ে সাংসদ অবগত ছিলেন কি না, সেটা জানাও সিআইডির কাছে জরুরি।
তদন্তকারীদের ব্যাখ্যা, অভিষেক যেহেতু ৫ মে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—তাই তিনিই ঠিক বলতে পারবেন কোন কোন বিধায়ক সেদিন এসেছিলেন। পাশাপাশি অভিষেক কোন ক্ষমতাবলে বিধানসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠি দিয়েছিলেন, সেটিও জানা দরকার। কিন্তু এই নিয়ে অভিষেক দ্বিতীয়বার জেরা এড়ানোয় গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে।  এবার তিনি কী উত্তর দিচ্ছেন, সেটা সিআইডির জানা দরকার। তদন্তকারীরা আশা করেছিলেন, ৮ জুন অভিষেক ভবানী ভবনে হাজিরা দেবেন এবং সমস্ত প্রশ্নের সদুত্তর তাঁর কাছে মিলবে। কিন্তু এদিন আইনজীবী মারফত চিঠি দিয়ে তিনি জানান, ১০ তারিখ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে হাইকোর্টে। এর বেশি তিনি একটি শব্দও খরচ করেননি। সিআইডি তখনই বুঝতে পারে যে অভিষেক হাজিরা দেবেন না। তারপরই সোমবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে ফের নোটিস  পাঠিয়ে মঙ্গলবার ডাকা হয়েছে। তিনি যদি আবারও তদন্তকারী সংস্থাকে এড়ান তখন কী হবে? প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করার ব্যাপারেই আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন সিআইডি অফিসাররা।

সম্পর্কিত সংবাদ