শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চড়কাণ্ডে অভিযুক্ত তমলুকের যুবক দেবাশিস আচার্যের ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’র তদন্তে বাড়িতে এল সিআইডি। ২০২১ সালে ১৭ জুন কোলাঘাট-হলদিয়া ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হয় দেবাশিসের। সেই ঘটনার পাঁচ বছর পর তাঁর বাড়িতে পৌঁছল সিআইডি। মঙ্গলবার সিআইডির পাঁচ সদস্যের একটি টিম তমলুক শহরে পার্বতীপুরে দেবাশিসের বাড়িতে পৌঁছন। তাঁর বাবা দেশবন্ধু আচার্য ও মা শিবানী আচার্য সিআইডি অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বেশকিছু নথি সংগ্রহ করেছেন। এনিয়ে শীঘ্রই চমক দেওয়ার মতো কিছু ঘটনা ঘটবে বলে বুধবার নিজের বাড়িতে বসে শিবানীদেবী জানান।
২০২১ সালে শিবানীদেবী বিজেপির তমলুক নগর মহিলা মোর্চার সহ সভানেত্রী ছিলেন। ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মহিলা মোর্চার ওই পদ ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান। ওই বছরের ১৭ জুন। রাত ১০টা নাগাদ দুই বন্ধুকে নিয়ে দেবাশিস তমলুক থানার নেতাজিনগরে কোলাঘাট-হলদিয়া জাতীয় সড়কে গিয়েছিলেন। দেবাশিসের বন্ধুদের বয়ান অনুযায়ী, নেতাজিনগরে একটি চায়ের দোকানে বসে তিনজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। কিছু পর দেবাশিস বন্ধুদের আসছি বলে বাইক নিয়ে মেচেদার দিকে চলে যান। তারপর কোনো খোঁজ ছিল না। পরদিন ভোর ৪টা নাগাদ জাতীয় সড়ক থেকে তাঁকে মরনাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ ঘণ্টা পর মারা যান। পথ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে অনুমান। যদিও এই ঘটনার মধ্যে রহস্য ছিল। বন্ধুদের বসিয়ে রেখে দেবাশিস কেন একা মেচেদার দিকে গিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। দেবাশিসের পরিবার এনিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হলেও সেই বিচার মেলেনি পূর্বতন সরকারের আমলে।
তমলুক শহরে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে পার্বতীপুর এলাকায় দেবাশিসের বাড়ি। ২০১৫ সালে ৮ জানুয়ারি চণ্ডীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গালে সপাটে চড় মেরে রাতারাতি বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন দেবাশিস। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের প্রচারে ফের অভিষেক কাঁথির দইসাইয়ের মাঠে প্রচারে গিয়েছিলেন। তখন দেবাশিসকে জড়িয়ে ফেসবুসের কটাক্ষের সুরেই ভিডিও পোস্ট করেছিলেন বিজেপি নেতা কণিষ্ক পণ্ডা। সেই দেবাশিসের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তার রহস্য উদ্ঘাটন করতে এবার আসরে নামল সিআইডি।
বুধবার নিহত দেবাশিসের বাবা মা শিবানীদেবী বলেন, ‘মঙ্গলবার সিআইডি অফিসাররা বাড়িতে এসেছিলেন। ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে অফিসাররা কথা বলেছেন। কিছু নথি নিয়েছেন। আমরা চুপচাপ বসে নেই। খুব তাড়াতাড়ি এনিয়ে কিছু চমক দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, এখনই সেটা বলছি না।’ দেবাশিসের বাবা বলেন, আমরা সন্তানকে হারিয়েছি। তারপর বুকের ভিতর অনেক জ্বালা যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি। কীভাবে ওই ঘটনা ঘটেছিল, সেটা প্রকাশ্যে আসা উচিত।’