Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

বড়দিনের আনন্দ

আগামী বৃহস্পতিবার বড়দিন। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন মানেই আলো আর ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে ঘর সাজানো এবং কেক খাওয়া।

বড়দিনের আনন্দ
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আগামী বৃহস্পতিবার বড়দিন। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন মানেই আলো আর ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে ঘর সাজানো এবং কেক খাওয়া। কেমন করে উদ্‌যাপন করবে বড়দিনের আনন্দ, জানাল ডানকুনি শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাশ্রম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। ছবিও আঁকল তারা।

Advertisement

মা-বাবার উপহার
 বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। তার মধ্যে অন্যতম ২৫ ডিসেম্বর উদ্‌যাপন। পরীক্ষার পর এমনিতেই এই সময় ছুটি থাকে। শীতকাল মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে প্রতি বছরই এই সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে উপহার পাই। বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে আমার ক্রিসমাসের দিনটি শুরু হয়। যেহেতু এই দিনটি সকলেরই ছুটি থাকে, তাই প্রত্যেক বছর বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে পিকনিকের আয়োজন করি। তবে, দূরে কোথাও যাই না। কারও না কারও বাড়িতে এই আয়োজন করা হয়। সকলের অভিভাবক-অভিভাবিকারাও থাকেন। বন্ধুদের মায়েরা মিলে রান্না করে। আমরা হাত লাগাই। এর মাঝে আমরা লুকোচুরি, কুমির-ডাঙা, লুডো, ক্যারাম খেলি। তার পর মাংস-ভাত খেয়ে হুল্লোড় করা হয়। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করেই দিনটা কেটে যায়।
—কোয়েল ঘোষ, নবম শ্রেণি
জিঙ্গেল বেল
 শুধু ২৫ ডিসেম্বর কেন, গোটা ডিসেম্বর মাসটাই মনে হয় উৎসবের মরশুম। একবার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা মিটে গেলে একেবারে হইহই ব্যাপার। যদিও এখন আমি একাদশ শ্রেণি। আমাদের সেমেস্টার সিস্টেমে লেখাপড়া হয়। যাইহোক, বড়দিন মানেই চারদিকে রংবেরঙের আলো। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন এখন আর শুধু খ্রিস্টানদের উৎসব নয়। সব ধর্মের মানুষ বড়দিনের উৎসবে মেতে ওঠে। ক্রিসমাস মানেই সান্তা ক্লজের উপহার আর জিঙ্গেল বেল গান। এই গানটি শুনতে আমি খুব ভালোবাসি। সান্তা ক্লজের উপহার পেয়ে শিশুদের মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাদের হাসিই বড়দের জন্য উপহার। কলকাতায় পার্ক স্ট্রিটে এদিন খুব ভিড় হয় বলে শুনেছি। আমি কখনও যাইনি। তবে, শহরের পার্ক, শপিংমলগুলিতে চলে উৎসবের আয়োজন। কেক কাটতে কাটতে আমরা জিঙ্গল বেলের সুরে সবাই মেতে উঠি।
—মন্দিরা রায়, একাদশ শ্রেণি
নিত্য নতুন কেক
 বড়দিন মানেই নিত্য নতুন কেকের সম্ভার! প্রতি বছরেরই মতোই এবছরও ক্রিসমাসের অপেক্ষায় আছি। বড়দিন মানেই আমার কাছে কেক খাওয়া। যিশুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাজারে হরেক রকম কেক বিক্রি হয়। শুধু ২৫ ডিসেম্বরই নয়, যেহেতু আমি কেক খুব পছন্দ করি, তাই এই সপ্তাহটিতে তিন-চারদিন কেক কিনে নিয়ে আসেন বাবা। এদিন বাবার ছুটি। তাই বড়দিনে আমরা কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই। কোনও বছর ব্যান্ডেল চার্চ-ইমামবাড়া তো কোনও বছর ভিক্টোরিয়া-জাদুঘর গেলাম। আবার কোনও বছর চিড়িয়াখানায় চলে গেলাম। কিন্তু যেখানেই যাই, সেখানেই খুব ভিড় হয়। এবছর ইকো পার্কে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ঘুরতে যাওয়ার সময় পিঠের ব্যাগে কক আর র‌্যাকেট নিয়ে নিই। ফাঁকা জায়গা পেলে বাবা-মায়ের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলি। মা লুচি, আলুর দম বানিয়ে নিয়ে যান। সঙ্গে থাকে জয়নগরের মোয়া। অবশ্য, কলকাতার অনেক জায়গায় বাইরের খাবার নিয়ে ঢুকতে দেয় না। সেটা খুবই সমস্যার। বড়দিন মানে তো শীতকাল। এই সময় মোয়া আর নলেনগুড়ের মিষ্টি খেতে আমার খুব ভালো লাগে। সবশেষে ভগবান যিশুর কাছে প্রার্থনা করব, সকলের মন থেকে হিংসা-দ্বেষ নাশ কর। স্নেহ, ভালোবাসায় সবার জীবন ভরিয়ে দাও।
—দিশা সাহা, সপ্তম শ্রেণি
শুভেচ্ছা বিনিময়
 ক্রিসমাস হল খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব। বিশ্বের প্রতিটি দেশে বড়দিন পালন করা হয়। জেরুজালেমের বেথলহেম শহরে যিশু খ্রিস্ট জন্মগ্রহণ করেন। জোসেফ ও মেরিমাতার এই সন্তান মানবজাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। শুধু খ্রিস্টানরাই নন, বড়দিনের আনন্দে অন্যান্য ধর্মের মানুষজনও মেতে ওঠেন। আমরা তার ব্যতিক্রম নই। নানা রঙের বল, ঘণ্টা, তারা আর ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে ঘর সাজাই। ভগবান যিশুর একটি ছবিও বসাই। দীপাবলির সময় যে আলো দিয়ে ঘর সাজানো হয়, সেগুলো বের করে ঘর সাজাই। বড়দিন মানেই প্রচুর আনন্দ—
‘বড়দিন বড়দিন বড় মজা হয়
ছোট বড় সবার মনে খুশির হাওয়া বয়।’ টিভিতে দেখি ক্রিসমাসের আগের দিন রাতে গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা চলছে। মোমবাতি জ্বলছে প্রভু যিশুর ছবির সামনে। আমরা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন একে অপরকে ‘মেরি ক্রিসমাস’ শুভেচ্ছা জানাই।
—কৃষ্ণা ঘোষ, দ্বাদশ শ্রেণি
অপেক্ষায় থাকি
 প্রভু যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষ্যে গির্জায় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা সেই প্রার্থনায় যোগ দেন। তার পর তাঁরা উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন। আমরাও সেই আনন্দ ভাগ করে নিয়ে ২৫ ডিসেম্বরের আনন্দে মেতে উঠি। কেউ কেউ ঘর সাজাই, কেউ পিকনিক করতে যায়। বড়দিন মানেই আনন্দের উৎসব, হুল্লোড়ের উৎসব। এসময়ে স্কুল ছুটি থাকায় আমরা বন্ধুরা কারও একজনের বাড়িতে দেখা করি। কেক কাটি। এভাবেই কেটে যায় বড়দিনের দিনটি।
—ইশা পরামানিক, একাদশ শ্রেণি
ছুটির আনন্দ
 বার্ষিক পরীক্ষা মিটে যাওয়ায় মন খুশিতে ভরপুর থাকে। এই সময়টা লেখাপড়ার তেমন চাপ থাকে না। শুধু নতুন ক্লাসের বই কোনও দাদা-দিদির কাছ থেকে জোগাড় করতে পারলে একটু-আধটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া। ২৫ ডিসেম্বর এত ভিড় থাকে, তাই আর এদিন কোথাও ঘুরতে যাই না। তবে, বাবার ছুটি থাকায় বাড়িতেই সবাই খাওয়া দাওয়া করি, আনন্দ করি। ছুটির মেজাজেই কাটে প্রভু যিশুর জন্মদিনটি।
—মারিয়া খাতুন, নবম শ্রেণি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ