নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে কলেজ ছাত্রী স্নেহা ভাণ্ডারীর বাড়িতে যান তিনি। পরে রাত আটটা নাগাদ হাওড়ার সালকিয়ায় মৃত বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই পরিবারকেই আর্থিক সাহায্য ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। স্নেহার মা সোমা ভান্ডারীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তার ভাই ও বোনের পড়াশোনার দায়িত্বেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভা সেরে বিষ্ণুপুরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। বিষ্ণুপুর থানার সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের এগারো গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন স্নেহা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তার মা সোমা ভাণ্ডারী যাতে কাজে যোগ দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নবম শ্রেণির ছাত্রী স্নেহার বোন নেহা ও তার ভাইয়ের পড়াশোনার ব্যাপারেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। দুর্ঘটনার সময় দিদির সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিল নেহাও। পদপিষ্ট হয়ে সেও আহত হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুজোয় একটি মাত্র দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি না ঘটলেই আরও ভালো হত। ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবে রাজ্য সরকার। মৃত ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, পরিবারকে ভরসা দিতে এসেছি। মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না, তবু পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য করেছি।’
এরপর সালকিয়ার কামিনী স্কুল রোডে বিকাশ ভট্টাচার্যের (৬৬) বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভাইপো, বৌদি সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। গত সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় বিকাশবাবুর। পরিবার সূত্রে খবর, প্রতিবছরই কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় ঠাকুর দেখতে যেতেন তিনি। চোরবাগানের ঘটনায় হাওড়ারই লিলুয়া ভট্টনগরের বাসিন্দা ১৭ বছরের আকৃতি কুমারীরও মৃত্যু হয়েছিল। সেই পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সালকিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত নিহতের মধ্যে ১৬টি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। বিহারের মুজফ্ফরপুরে মৃত দু’জনের পরিবারের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি কথা বলবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চোরবাগানের ঘটনার পর রাজ্যের সিপি, এসপিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা দিয়েছিলাম, তা ছটপুজো পর্যন্ত জারি থাকবে।’ সালকিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া ও পুর কমিশনার তেজস্বী রানা।



