Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোপড়া: অতিথি শিক্ষকের অবসরের মধ্য দিয়ে বন্ধ হল জুনিয়ার হাইস্কুল

একমাত্র অতিথি শিক্ষকের অবসরের মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিগছ আদিবাসী জুনিয়ার হাইস্কুল।

চোপড়া: অতিথি শিক্ষকের অবসরের মধ্য দিয়ে বন্ধ হল জুনিয়ার হাইস্কুল
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চোপড়া: একমাত্র অতিথি শিক্ষকের অবসরের মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিগছ আদিবাসী জুনিয়ার হাইস্কুল। শিক্ষক সংকটের জন্য এবছর নতুন করে ছাত্র ভর্তি নেওয়া হয়নি। যে ক’জন পড়ুয়া ছিল, তাদের আগেই টিসি দেওয়া হয়েছিল। যাতে তারা অন্য স্কুলে ভর্তি হতে পারে। শনিবার থেকে কার্যত তালা বন্ধ হয়ে গেল উত্তর দিনাজপুর জেলার এই স্কুলটি। বিশাল ভবন ও পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষামহল।

Advertisement

চোপড়া নর্থ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক ফারুক মণ্ডল বলেছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষক সংকটে স্কুলটি চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে বন্ধ রাখা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ হলে বা সমস্যা মিটলে ফের স্কুলটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার স্কুলটির একমাত্র অতিথি শিক্ষক প্রদীপকুমার ঘোষ অবসর নেন। ২০১১ সালে চোপড়ার প্রান্তিক এলাকায় এই স্কুলটিতে পঠনপাঠন শুরু হয়েছিল। একসময় শতাধিক পড়ুয়া ছিল। ২০১৪ সালে দুজন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। ২০২২ সালে একজন স্থায়ী শিক্ষক বদলি হয়ে চলে যান। হাল ধরেন অতিথি শিক্ষক প্রদীপ। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক রমিতকুমার দাসও বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এদিন অতিথি শিক্ষকের অবসরের মধ্য দিয়ে স্কুলের দরজায় খিল পড়ল। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা প্রেমলাল সিংহ বলেন, মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আগেই একটি জুনিয়ার গার্লস স্কুল বন্ধ হয়েছে। এবার এই স্কুলটিও বন্ধ হল। অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুলগুলি চালু করা হোক। অতিথি শিক্ষক প্রদীপ বলেন, ইতিমধ্যে ৩৩ জন পড়ুয়াকে টিসি দেওয়া হয়েছে। নতুন করে এবার কাউকে ভর্তি নেওয়া হয়নি।

বাড়ির কাছের স্কুলটা এভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, ভাবতে পারেননি গোপীন টুডু। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা এখন কোথায় পড়তে যাবে? আরেক অভিভাবক সংগ্রাম সিংহের কথায়, গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার প্রসারের বদলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক।

সূত্রের খবর, চোপড়া ব্লকের একাধিক জুনিয়ার হাইস্কুল একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে চলছে। কোনও শিক্ষক অসুস্থ হলে পুরো পঠনপাঠন শিকেয় উঠছে। এই অবস্থা কতদিন চলে, সেটাই দেখার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ