Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চুন-সুড়কি-পাথর দিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়েছিলেন রামপুরহাটের ব্রজ, দুর্গা

চুন-সুড়কি-পাথর দিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়েছিলেন রামপুরহাটের ব্রজ, দুর্গা
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: পাথুরে রুখাশুকা এলাকায় ছিল না সেচ ব্যবস্থা। ফলে চাষাবাদ সেভাবে হতো না। জমির খাজনা মেটাতে না পারলে ইংরেজরা কৃষকদের উপর অত্যাচার চালাত। কেড়ে নিত জমি। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে চাষ করার জন্য মানুষকে সংগঠিত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন রামপুরহাটের সুলঙ্গা গ্রামের ব্রজ মুর্মু ও ঠাকুরপুরা গ্রামের দুর্গামুর্মু। ঝাড়খণ্ড থেকে বয়ে আসা ছোট নদীর উপর চুন-সুড়কি ও পাথর দিয়ে বাঁধ তৈরি করে এলাকায় চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তারপর সরকারের উদ্যোগে কয়েকবার বাঁধটি সংস্কার হলেও আজও তাঁদের লড়াইয়ের সফুল পাচ্ছেন না এলাকার মানুষ। তাঁরা চাইছেন, ইংজেরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক এই বাঁধকে কেন্দ্র করে এলাকার সেচ ব্যবস্থার উন্নতিতে এগিয়ে আসুক সরকার। 
Advertisement
ঠাকুরপুরা গ্রামে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তাঁদের পূর্বপুরুষরা ১৯ শতকের শেষভাগে জঙ্গল কেটে পাথর ও কাঁকরময় এলাকায় চাষ শুরু করেছিলেন। ১৯২৫ সালে ব্রজ মুর্মু ও দুর্গা মুর্মু এলাকায় সুষ্ঠুচাষের ব্যবস্থা করতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁরা ঝাড়খণ্ডের কল্যাণপুর থেকে বয়ে আসা ভুটকা নদীর উপর একটি কাঁচা বাঁধ নির্মাণ করেন। এরপর ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯০ সালে তৎকালীন উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী মহেশ্বর মুর্মু বাঁধটি নির্মাণের জন্য ৭ লাখের বেশি টাকা বরাদ্দ করে শিলান্যাস করেন। দুই প্রতিবাদী ব্রজ ও দুর্গার নামে বাঁধটির নামকরণ হয়। কিন্তু অজানা কারণে কাজ সমাপ্ত না করেই বাঁধটির উদ্বোধন করা হয়। ১৯৯৬ সালে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করে জেলা আদিবাসী কল্যাণ দপ্তর। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যেমন তেমন করে কাজ শেষ করে ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বনদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাসীবালা সহিস বাঁধটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েকদিনের মধ্যেই ট্রান্সফর্মা সহ পাম্প চুরি হয়ে যায়। তারপর আর কেউ ফিরেও তাকায়নি। তবে বাম আমল থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতিবছর ব্রজ ও দুর্গার স্মরণে ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি উদ্যোগে মেলা হয়ে আসছে। বছর দেড়েক আগে এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সরকারি অর্থে নতুন করে পাম্প ঘর করা হয়। তিনটি পাম্প বসে। সেখান থেকে দেড় কিমি দূরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্রামের ভিতরে জল ধরে রাখার জন্য পুকুর খনন করা হয়। তৈরি হয় একাধিক পাকা সেচ নালা। কিন্তু আজও সেখান থেকে সেচের জল পাচ্ছেন না এলাকার কৃষকরা।  
দুর্গা মুর্মুর বর্তমান বংশধর তিমতি হেমব্রম বলেন, এটা শুধু একটা বাঁধ বললে ভুল হবে। এটা ইংরেজদের বিরুদ্ধে ব্রজ ও দুর্গার আন্দোলনের প্রতীক। কিন্তু আক্ষেপ আজও তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল না। ঠাকুরপুরা গ্রামের বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য দেবুপ্রসাদ সাউ বলেন, এলাকায় তীব্র জলের কষ্ট। আশিসবাবুর হাত ধরে বাঁধ সংস্কারের কাজ হয়েছিল। কিন্তু বাঁধ থেকে পুকুর পর্যন্ত জল পৌঁছনো না দেখিয়েই এলাকা ছাড়ে ঠিকাদার। এরই মধ্যে মাসখানেক আগে তিনটি পাম্পই চুরি গিয়েছে। তিনি বলেন, এখনও বৃষ্টির উপরেই নির্ভর করে চাষ করতে হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কয়েকশো বিঘে জমিতে সেচের সুবিধা মিলত। জলকষ্টও দূর হতো।  
এব্যাপারে আশিসবাবু বলেন, ব্রজ ও দুর্গার সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ওই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ফের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ