নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পাণ্ডবেশ্বরে জলপ্রকল্পের সংস্কারের সময় ক্লোরিন গ্যাস লিক করায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন। মৃতার নাম জ্যোৎস্না পট্টনায়েক। তিনি পাম্প অপারেটরের মা। অসুস্থদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের এসিপি পিন্টু সাহা বলেন, এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয় নদের তীরে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের জলপ্রকল্পটি রয়েছে। অজয় নদী থেকে জল তুলে পরিস্রুত করে তা সরবরাহ করা হয়। প্রকল্প এলাকায় দপ্তরের কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার নিয়েই কোয়ার্টারে থাকেন কর্মীরা। এদিন সেই জলপ্রকল্প সংস্কারের কাজ চলছিল। জল পরিস্রুত করার জন্য ব্যবহৃত ক্লোরিন গ্যাস আচমকা লিক হতে শুরু করে। তাতে ঘটনাস্থলে থাকা একের পর এক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের লোকজন অসুস্থ হতে থাকেন। ক্লোরিনের তীব্র গন্ধে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আরও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্যাপক পরিমাণ ক্লোরিন গ্যাস লিক হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এলাকা খালি করে দেয় পুলিস ও প্রশাসন। দমকল বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। পাণ্ডবেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কিরীটী মুখোপাধ্যায় রাতে ঘটনাস্থল থেকে জানান, পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আটজন অসুস্থ হয়েছেন। জলপ্রকল্প সংস্কারের কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। আরও সচেতনভাবে কাজ করা উচিত ছিল।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। একজনের প্রাণ চলে গিয়েছে। অসুস্থদের আরোগ্য কামনা করছি। কার গাফিলতির জন্য এত বড় ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রূপম ঘোষকে ফোন করা হলেও তিনি না ধরায় প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, পাম্প অপারেটরের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।