Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চিটফান্ড কোম্পানি খুলে মুম্বইতে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা, মুকুন্দপুর থেকে ধৃত মহিলা কর্ণধার

চিটফান্ড কোম্পানি খুলে মুম্বইতে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা, মুকুন্দপুর থেকে ধৃত মহিলা কর্ণধার
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুম্বইতে কোটি কোটি টাকা চিটফান্ড প্রতারণার ঘটনায় অভিযুক্ত বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার মহিলা কর্ণধার কলকাতায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে এসে লুকিয়েছিলেন। বারবার নাম বদল করছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীদের বলা ছিল, কেউ দেখা করতে চাইলে, যেন সরাসরি না বলে দেওয়া হয়। কলকাতায় থাকাকালীন যাতায়াতের জন্য একই  গাড়ি ব্যবহার করতেন না। এখানে বসেই প্রতারিতদের টাকা সরানোর জন্য বিভিন্ন নির্দেশ দিতেন। শেষ পর্যন্ত মুকুন্দপুর এলাকা থেকে চিটফান্ড সংস্থার কর্ত্রী কাজলকে গ্রেপ্তার করল মুম্বইয়ের পাইধনী থানা। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে খবর, মুম্বইয়ের বাসিন্দা কাজল একটি চিটফান্ড সংস্থা খোলেন। তিনি ছাড়াও সংস্থায় আরও সাত ডিরেক্টর ছিলেন। তাঁদের তরফে বলা হয়, সংস্থায় বিনিয়োগ করলে ভালো টাকা মিলবে। এরজন্য লিখিত চুক্তি করবেন আমানতকারীদের সঙ্গে। যাতে কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনতে না পারেন। তাঁদের এখানে টাকা রাখলে, অল্প সময়ে বেশি রিটার্ন পাওয়া যাবে। সেবি বা অন্য নিয়ামক সংস্থার অনুমতি রয়েছে। আমানতকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে কোম্পানির তরফে বিভিন্ন নিয়ামক সংস্থার জাল নথি দেখানো হয়। অভিযোগ ওই চিটফান্ড কোম্পানির কথায় আশ্বস্ত হয়ে মুম্বই, পুনের অনেকেই টাকা রাখতে শুরু করেন। সারদা, রোজভ্যালির কায়দায় প্রথমে কিছু টাকা ফেরত দিলেও, পরে আর কোনও আমানতকারী টাকা পাচ্ছিলেন না। প্রতারিত হয়ে মুম্বইয়ের এক আমানতকারী পাইধনী থানায় অভিযোগ করেন। তাতে তিনি জানান. এই সংস্থায় তিনি এক কোটি ২৮ লক্ষ টাকা রেখেছিলেন। তার তদন্তে নেমে মুম্বই পুলিসের অফিসাররা দেখেন, সংস্থার তালা পড়েছে। কোম্পানির ডিরেক্টররা কেউ নেই। তদন্তে উঠে আসে, বেআইনি এই অর্থলগ্নি সংস্থার কর্ণধার হলে কাজল নামে এক মহিলা।  দিল্লির বাসিন্দা কাজল মুম্বইতে এসে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে অফিস খোলেন। তারপর নিজেকে ডিরেক্টর দেখিয়ে বাজার থেকে টাকা তুলতে শুরু করেন। বারবার মোবাইল নম্বর বদল করায় মুম্বইয়ের অফিসাররা তাঁর খোঁজ পাচ্ছিলেন না। মাস খানেক আগে পুলিসের হাতে ওই মহিলার নতুন নম্বর আসে। তার সূত্র ধরে জানা যায়, কাজল কলকাতায় রয়েছেন। তার খোঁজে পুলিস বাইপাস লাগোয়া মুকুন্দপুর এলাকায় আসে। কিন্তু কমপ্লেক্সে পুলিস ঢুকেছে খবর পেয়ে মহিলা পিছন দিক দিয়ে পালিয়ে যান। খালি হাতে ফিরতে হয় তদন্তকারীদের। আবার বদল করেন মোবাইল। সপ্তাহখানেক আগে নতুন নম্বর পান তদন্তকারীরা। জানা যায়, আবার কলকাতায় এসেছেন কাজল। ফোনে বিভিন্ন এজেন্টদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমনতকারীদের টাকা কোথায় কার কাছে রাখতে হবে। এমনকী পুলিসের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে ফ্ল্যাট বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরই মুম্বই পুলিসের টিম রবিবার কলকাতায় পৌঁছয়। কলকাতা পুলিসের সাহায্য নিয়ে কাজলকে মুকুন্দপুরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত জানিয়েছেন কলকাতায় বহুবার এসেছেন। এখানে তাঁর অনেক পরিচত রয়েছেন। সেই সুবাদে তিনি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। পরিকল্পনা ছিল প্রতারণার টাকা এখানে নিয়ে এসে অন্যত্র সরানোর। তারজন্য কাজও শুরু  হয়েছিল।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ