


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে জনতার দাবিতে উন্নয়ন। আছে পুরসভার তরফে রাস্তাঘাট, নিকাশি, আলো সহ একগুচ্ছ পরিষেবা। চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রচারে শাসকের দস্তানার মধ্যে আছে এমন হরেক হাতিয়ার। বিরোধীদের অস্ত্র ভাণ্ডার তেমন মজবুত নয়, তাদের ভরসা হাতের পাঁচ ‘বিধায়ক বিরোধিতা’। ফলে, হুগলির জেলা সদরে ভোটের প্রচার যে এই পথেই গড়াবে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যার স্বীকৃতি মিলছে রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকেও। এখানেই প্রশ্ন, স্থানীয় ইস্যু হিসেবে শুধু বিধায়ক বিরোধিতার প্রচার কতটা সুবিধা দেবে বিরোধীদের?
হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের আইনজীবী নেতা নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, উন্নয়নের প্রশ্নে পুরসভার তরফে নাগরিকদের মত নিয়ে কাজ করা হয়েছে। নিকাশি থেকে সাফাই, আলো থেকে জল, সমস্ত পরিষেবাই এখানে উন্নত। পাশাপাশি, জেলা সদর হাসপাতাল ইমামবাড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা বহাল করা হয়েছে।
হাইডিপেনডেন্সি ইউনিট চালু হয়েছে। পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি ভালো পরিষেবার জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে পুরস্কার পেয়েছে। গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল হুগলি আসন জেতার পর উন্নয়নের পালে হাওয়া লেগেছে। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারের যাবতীয় জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে। এসবই আমাদের প্রচারে থাকবে। চুঁচুড়ায় মানুষ উন্নয়নকে চাক্ষুস করতে পারছেন, এটাই সবচেয়ে বড়ো প্রচার। বিজেপি সম্প্রতি চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেছিল। তা নিয়ে দলের অন্দরেই হাসাহাসি হয়।
বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল বলেন, বিধায়ক সরকারের মুখ। ফলে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর রাজ্য সরকার কী উন্নয়ন করেছে, তার বাস্তব চিত্র আমরা তুলে ধরব। বিধায়কের একগুচ্ছ কর্মকাণ্ড তো প্রচারে থাকবেই। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা মনোদীপ ঘোষ বলেন, মিথ্যাচারী, চাকরিখেকো সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রচার চলবে। সঙ্গে চুঁচুড়ার বিধায়কের কাজ নিয়েও প্রশ্ন থাকবে। পাঁচ বছর যিনি নাগরিকদের জন্য কাজ করবেন বলেছিলেন, তিনি আসলে কী করেছেন, সেই সত্য তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক মহল বলছে, স্থানীয় স্তরে আক্ষরিক অর্থেই কাজ হয়েছে। বিশেষ করে চুঁচুড়া বিধানসভায় তাই সরকার বিরোধী প্রচার দানা বাঁধা কঠিন। ফলে সব কিছু ছেড়ে এখন বিধায়ককেই টার্গেট করেছে বিরোধীরা। কিন্তু প্রশ্ন হল, বিধানসভা নির্বাচনে তাতে কতটা সুবিধা পাওয়া যাবে? বিধায়ক বিরোধী প্রচারকে রুখে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু অস্ত্র শাসকদলের হাতে আছে। কিন্তু ব্যক্তি আক্রমণের কৌশল ধোপে না টিকলে বিকস্প দাওয়াই কী হতে পারে, তা জানা নেই বিরোধীদের।