নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজোর আগে স্বস্তি পেলেন চুঁচুড়া পুর এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার আন্দোলন অস্থায়ী পুরকর্মীরা তুলে নিলেন। ফলে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে শহরের সাফাই ও নিকাশি পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে আশা নাগরিকদের। গত দু’দিন কার্যত নরকযন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে শহরের মানুষকে। তা থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়ে সবাই খুশি।
পুরকর্মী সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুমুখী চাপের মুখে বুধবার মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাতে কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ আছে। অনেক কর্মীর দাবি, কাজ কেড়ে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকির সঙ্গে পুলিশকেও ময়দানে নামানো হয়েছিল। আন্দোলনকারী নেতৃত্ব দাবি করেছে, কর্মীদের দাবি মানা হয়েছে বলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আন্দোলন শুরুর পর প্রশাসন নরমে-গরমে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছিল। মঙ্গলবার প্রায় ৬০০ কর্মীকে বসিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে বুধবার সে পথ থেকে কিছুটা সরে আসে কর্তৃপক্ষ। চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক আলোচনায় বসেন। আলোচনায় বরফ গলে। বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, ‘কর্মীদের বলেছি পরিস্থিতি কঠিন। আমরা তাঁদের সমব্যথী। কিন্তু সহযোগিতা না করলে সমস্যা মেটানো যাবে না। আমরা দ্রুত কিছু টাকা মিটিয়ে দেব। পুজো প্রাক্কালে যাতে সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়া যায়, তার প্রয়াস চলছে। বোনাসের বিষয়টি সরকারিস্তরে বিবেচনাধীন। কিছু কর্মীকে আমরা অন্য দপ্তরে কাজে নিয়োগ করব।’ আন্দোলনকারী কর্মীদের নেতা সিপিএমের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘তিন শ্রেণির কর্মীকে বসিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তা কর্তৃপক্ষ প্রত্যাহার করেছে। সাতদিনের মধ্যে মজুরির কিছু টাকা দেওয়ার কথা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, আন্দোলনের জয় হয়েছে। চাপের কাছে মাথা নত করা হয়েছে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।’
প্রায় দু’মাস ধরে বকেয়া মজুরি নিয়ে চুঁচুড়া পুরসভায় অস্থায়ী কর্মীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন চলছে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন কর্মীরা। তার জেরে নাগরিক পরিষেবার কাজ স্তব্ধ হয়ে যায়। পুরসভার অধিকাংশ কাজই অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে করানো হয়। এই অবস্থায় সাফাই, নিকাশির মতো পরিষেবা না পেয়ে সবথেকে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন নাগরিকরা। আন্দোলনের প্রথমদিন সমঝোতার পথ খোলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। তবে এদিন আন্দোলন প্রত্যাহার হওয়ায় স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে নাগরিক মহল।