নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিংড়িঘাটা নিয়ে জট কেটেছে! উৎসব মিটলেই রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা আরভিএনএল’কে কাজের ছাড়পত্র দেবে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। নভেম্বরের গোড়ায় নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর রুটে চিংড়িঘাটায় আটকে থাকা ৩৬৬ মিটারের কাজ শুরু হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে তেমনটাই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার আগে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাতে চিংড়িঘাটা থেকে মেট্রোপলিটন রুটে বিকল্প পথে গাড়ি যাতায়াতের ট্রায়াল রান করাবে কলকাতা পুলিশ। রাত ১০টা থেকে দুটো এবং দুটোর পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত দু’ভাগে সায়েন্সসিটিগামী এবং উল্টোডাঙাগামী গাড়ি চলাচলের ট্রায়াল রান হবে। অন্যদিকে, মঙ্গলবারের বৈঠকের আলোচনায় যে প্রস্তাবগুলি গৃহীত হয়েছে, তা মেট্রো কর্তৃপক্ষকে পাঠানোর আগে রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই প্রস্তাবে নতুন ‘শর্ত’ যোগ করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার নতুন বিজ্ঞাপন নীতি অনুযায়ী নতুন মেট্রোপথের থামে থাকা বিজ্ঞাপনী কাঠামো খুলে ফেলতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পার্ক স্ট্রিটের মেট্রো ভবনে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, নভেম্বর মাসের গোড়ার পরপর দু’সপ্তাহ ‘উইকএন্ডে’ অর্থাৎ শুক্র, শনি ও রবিবার রাতে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ছাড়পত্র দেওয়া হবে মেট্রোকে। সেই লক্ষ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রায়াল রান শুরু করতে চলেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানি ১৮ সেপ্টেম্বরের আগেই ভেড়ির উপর দিয়ে নির্মিত বাইপাসের সমান্তরাল সার্ভিস রোডে যানবাহন চালিয়ে পরিস্থিতি হাতেকলমে দেখে নিতে চাইছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ওই রুটে ৩১৭ থেকে ৩১৮ নম্বর থামের সংযোগকারী কাজ হওয়ার সময় সায়েন্স সিটি থেকে উল্টোডাঙা বা এয়ারপোর্টগামী গাড়িগুলি বিকল্প পথে চলবে। উল্টো রুটে গাড়ি স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। অন্যদিকে, ৩১৮ থেকে ৩১৯ নম্বর থামের সংযোগের কাজ হওয়ার সময় আবার ঠিক তার বিপরীত পথে ঘোরানো হবে।
অন্যদিকে, মেট্রো করিডরের উড়ালপুলের থামে বিজ্ঞাপনী কাঠামো খুলে ফেলতে হবে। পুরসভার বিজ্ঞাপন নীতির এই বিষয়টিও মেট্রো কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে পুরসভা এবং পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা বলেন, মঙ্গলবার মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছে, সেই বিষয়ে পুলিশের সিলমোহর দেওয়ার আগে নবান্নের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই আলোচনার প্রস্তাবগুলি মেট্রো কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে পাঠানোর আগে নবান্নে জানানো হচ্ছে। রাজ্য যখন মেট্রোকে জমি দিয়েছিল, তখন ২৬০ কোটি টাকার বেশি মকুব করা হয়। তারপর কী করে মেট্রো বিজ্ঞাপন লাগিয়ে টাকা তুলতে পারে! পুরসভার বিজ্ঞাপন নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মেট্রোর থামে বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না। তাই বিজ্ঞাপনের জন্য তৈরি করা কাঠামো খুলে ফেলতে বলা হচ্ছে।