Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চওড়া হবে চিংড়িঘাটা মোড়, ভাঙা পড়বে ৪টি বাড়ি, ১৩ পরিবারকে পুনর্বাসন দিতে পাঁচতলা ভবন

ই এম বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস টাইমে নিত্যদিন ভুগতে হচ্ছে মানুষকে। এই মোড়ে রাস্তা সঙ্কীর্ণ হওয়ার কারণে সেক্টর ফাইভ থেকে বাইপাসগামী সড়কে ব্যাপক যানজট হয়।

চওড়া হবে চিংড়িঘাটা মোড়, ভাঙা পড়বে ৪টি বাড়ি, ১৩ পরিবারকে পুনর্বাসন দিতে পাঁচতলা ভবন
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: ই এম বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস টাইমে নিত্যদিন ভুগতে হচ্ছে মানুষকে। এই মোড়ে রাস্তা সঙ্কীর্ণ হওয়ার কারণে সেক্টর ফাইভ থেকে বাইপাসগামী সড়কে ব্যাপক যানজট হয়। পরিস্থিতি সামলে দিতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিসের। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাইপাসের ওই অংশ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করে কেএমডিএ (কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি)। সেই কাজ করতে গেলে চিংড়িঘাটা মোড়ের চারটি বহুতল ভাঙতে হবে। সেখানে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ছাড়াও রয়েছে একাধিক দোকান। বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের কী হবে, সেই প্রশ্নে জট তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদী হয়ে পড়ে গোটা প্রক্রিয়া। অবশেষে সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জটিলতা কাটানো গিয়েছে। বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেএমডিএ। সেই প্রক্রিয়ায় এবার আরও এক ধাপ এগল কেএমডিএ। চিংড়িঘাটার পাশেই সুকান্তনগর কলোনিতে তৈরি হবে পাঁচতলা ভবন। সেখানেই পুনর্বাসন পাবেন চিংড়িঘাটার এই বাসিন্দারা। আপাতত একটি বহুতলের বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দিতে দোতলা একটি বিল্ডিং নির্মাণ হবে। এর জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। পুজোর আগেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

বছর দেড়েক আগে চিংড়িঘাটায় বাইপাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় কেএমডিএ। চিংড়িঘাটা থেকে সায়েন্স সিটিগামী রাস্তা চওড়া করার পরিকল্পনা হয়। ওই রাস্তার বাঁদিকে থাকা চারটি বহুতল এবং তার নীচে থাকা একাধিক দোকান সরানো নিয়ে বাসিন্দা ও দোকানদারদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্য। কলকাতার পুলিস কমিশনার নিজেও একাধিকবার এখানে যানজটের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। লাগাতার চেষ্টার পর অবশেষে সবাই কেএমডিএ’র প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশেই সুকান্তনগরে একটি সরকারি জমি রয়েছে। বর্তমানে সেই জমির একাংশে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং অন্যান্য দখলদার রয়েছে। কেএমডিএ সূত্রে খবর, দখলদারদের সরিয়ে ওই সরকারি জমির প্লট ১২, ১৩ এবং ১৪ মিলিয়ে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। বিল্ডিংয়ের নীচে থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। আপাতত দ্বিতল ভবন তৈরির টেন্ডার ডাকা হয়েছে। বরাদ্দ হয়েছে ২ কোটি সাড়ে ৩২ লক্ষ টাকার বেশি। কেএমডিএর এক কর্তা বলেন, একটি বহুতলের চার-পাঁচটি পরিবারকে দ্বিতল ভবনে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে আরও তিনটি বহুতলের ৮-৯টি পরিবারের পুনর্বাসন দেওয়া হবে। পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের পুরোটাই হবে ‘রেসিডেন্সিয়াল’। আর যে আটটি দোকান ভাঙা পড়বে, তাদের জন্য ইতিমধ্যে নতুন দোকান তৈরি হয়ে গিয়েছে অনেকটাই। শীঘ্রই সেগুলি হস্তান্তর করা হবে।  পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে চিংড়িঘাটা মোড়ের চারটি বহুতল ভেঙে রাস্তা চওড়া করার কাজ শুরু হয়ে যাবে। চিংড়িঘাটা মোড় থেকে সায়েন্স সিটি যাওয়ার রাস্তার কিছুটা অংশ খালের উপর রয়েছে। সেখানে আছে কালভার্ট। ওই অংশে রাস্তা চওড়া করার জন্য নতুন প্রশস্ত কালভার্ট তৈরি করা হবে, যা সোজা ক্যাপ্টেন ভেড়ির সামনে গিয়ে মিশবে। শুধুমাত্র এই অংশের জন্যই ১৩ কোটি টাকা প্রকল্প খরচ ধরা হয়েছে। সম্ভাব্য খরচের হিসেব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে। পুনর্বাসনের কাজ সম্পূর্ণ হলেই রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কেএমডিএ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ