আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
চীন দেশের হুনান প্রদেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। চারদিকে তাকালে মনে হবে যেন ছবি আঁকা ক্যানভাস সাজানো রয়েছে। এই হুনান প্রদেশেই আছে গাছ পাহাড়। পাহাড়ি প্রদেশটিতে রাস্তাঘাট উঁচু-নিচু। তারই বাঁকে হঠাৎ উঁকি দিয়ে যায় গাছ পাহাড়। পোশাকি একটা নামও রয়েছে এই গাছ পাহাড়ের— তিয়ানজি মাউন্টেন। বিস্তৃত এলাকা জুড়ে উঁচু গাছ দাঁড়িয়ে আছে মাথা তুলে। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা ভাবছ, এ আবার আশ্চর্যের কী? গাছ তো মাটি থেকে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেই। কিন্তু না, এই গাছগুলো দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে একেবারেই ভিন্ন। সোজাসুজি মাটি থেকে উপর দিকে ওঠেনি। কাছে গেলেই বোঝা যাবে এই ভিন্ন ধারার গঠনের কারণ। এগুলো আসলে গাছই নয়, লম্বা আকৃতির পাহাড়। অবাক লাগছে? ভাবছ তাও আবার সম্ভব নাকি? গাছের মতো সরু কাণ্ড, লম্বা গড়ন, উঁচু হয়ে মাটি থেকে উঠে গিয়ে আকাশ ছুঁয়েছে। অথচ গাছ নয়, পাহাড়! হ্যাঁ পাহাড়ই বটে। তবে যে সে পাহাড় নয়, চুনাপাথরের তৈরি পাহাড়। গায়ে তাদের ঘন সবুজ গুল্মরাজি। আর সেই কারণেই দূর থেকে দখলে গাছ বলে ভ্রম হয়। কিন্তু গাছের চেয়ে তাদের চেহারা আলাদা। ত্যাড়াব্যাঁকা গড়ন, অসমান উচ্চতা। কাছে গেলেই বোঝা যায় এগুলো গাছ নয়, অন্য কিছু। কিন্তু খুব কাছে না গেলে পাহাড়ের অস্তিত্ব বোঝা দায়। এতই ঘন গাছ গজিয়ে রয়েছে এই পাহাড়ের গায়ে। আর পাহাড়টাই বা কেমন যেন! এমন উঁচু, সরু লম্বা পাহাড় আবার হয় নাকি? হয়, এই পাহাড় যেভাবে তৈরি হয়েছে, তাতে সব হয়। তাহলে আসল গপ্পোটা খুলেই বলি। হুনান প্রদেশের এই অঞ্চলে লাইমস্টোনের আধিক্য। সেই লাইমস্টোন জমতে জমতেই উচ্চতায় বেয়ে গিয়েছে। আর সেইভাবেই তৈরি হয়েছে উঁচু পাহাড়ি গড়ন। চুনাপাথরের গায়ে রোদ, জল লেগে গুল্মজাতীয় গাছ গজিয়ে উঠেছে। আর সেই গুল্মই কালে কালে লাইমস্টোনগুলিকে গাছ পাহাড়ে পরিণত করেছে। গাছ ঘন হয়ে সবুজ রং দিয়েছে এই চুনাপাথরের গায়ে। বছরের পর বছর জুড়ে এই চুনাপাথর মাটি কামড়ে উঁচু হয়ে উঠে গিয়েছে আকাশের দিকে। তৈরি হয়েছে গাছ পাহাড় বা তিয়ানজি মাউন্টেন।