ইসলামাবাদ ও বেজিং (পিটিআই): পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত ৫ হাজার আফগান শরণার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। এর আগে গত সপ্তাহেই আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তালিবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রথমবার তাদের কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার এই উদ্যোগ। জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনালাপে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করেন মুত্তাকি। ভারত-আফগান সম্পর্কে অবিশ্বাস তৈরির প্রচেষ্টা প্রতিহত করার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তবে তালিবান শাসনাধীন আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের এই নয়া সমীকরণের মধ্যেই এবার বেজিংয়ে চীন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বৈঠক থেকেই চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকে (সিপিইসি) আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার বিষয়ে সহমত হয়েছে ওই তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।
ঘটনাচক্রে, বেজিংয়ের বৈঠকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশক দার ও চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং উইয়ের সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী মুত্তাকি। গত সপ্তাহে জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলা সেই মুত্তাকিই এবার চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকে আফগানিস্তান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্পতি দিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৬ হাজার কোটি ডলারের চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে যাওয়ায় প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে ভারত।
বেজিংয়ে চীন,পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে এই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে পাক বিদেশ দপ্তরের তরফে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে। ইসলামাবাদে প্রকাশিত সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠক থেকে চীন-পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘটনাচক্রে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুরে’র প্রেক্ষিতে ‘চিরসখা’ চীনের দ্বারস্থ হতে তিন দিনের বেজিং সফরে গিয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী ইশক দার। এক হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে একজোট পাকিস্তান, চীন ও আফগানিস্তান।’ চীনা ও আফগান বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের একটি ছবিও পোস্ট করেছেন দার।