Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেতাজির সভাস্থলের জায়গায় গড়ে উঠেছে তাঁর নামাঙ্কিত শিশু উদ্যান

জঙ্গিপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পদধূলি পড়েছিল দু’বার। তাঁর জঙ্গিপুর আসার স্মৃতিচারণ করে এখনও গর্ববোধ করেন শহরবাসী।

নেতাজির সভাস্থলের জায়গায় গড়ে উঠেছে তাঁর নামাঙ্কিত শিশু উদ্যান
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সবুজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর: জঙ্গিপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পদধূলি পড়েছিল দু’বার। তাঁর জঙ্গিপুর আসার স্মৃতিচারণ করে এখনও গর্ববোধ করেন শহরবাসী। জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়ে জঙ্গিপুরে একটি সভায় এসেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। জঙ্গিপুরে এসে তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষণও দেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্থানটি স্মরণীয় করে রাখতে মহাবীরতলায় সদরঘাট গঙ্গাপাড়ে নেতাজি সুভাষ শিশু পার্ক গড়ে ওঠে। সেখানে তাঁর আবক্ষ মূর্তিও বসানো হয়েছিল। তবে এই পার্কে পর্যটক বা শিশুদেরও দেখা মেলে না। বছরের বেশিরভাগ সময় পার্কটি অবহেলায় পড়ে থাকে। শুধু স্বাধীনতা দিবস বা নেতাজীর জন্মদিনে মূর্তিতে ফুলের মালা পরানো হয়। অন্য সময় নেতাজীর মূর্তিটিও অযত্নে পড়ে থাকে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।

Advertisement

জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা দিবসে ও নেতাজীর জন্মদিবসে পুরসভার তরফে শ্রদ্ধা জানানো হয়ে থাকে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজীর ভূমিকা অপরিসীম।
জঙ্গিপুরে ভাগীরথী নদীর পূর্বপাড়ে এক টুকরো জমিতে সুভাষচন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত শিশু উদ্যানটি গড়ে উঠেছে। ১৯৩৮সালে গ্রীষ্মকালে পার্কটির পূর্বদিকে দাঁড়িয়ে জাতীয় কংগ্রেসের সভায় নেতাজী ভাষণ দিয়েছিলেন। সেসময় তাঁকে কাছে থেকে দেখেন এলাকাবাসী। পরে দ্বিজপদ চট্টোপাধ্যায় জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সভাস্থলটি স্মরণীয় করে রাখতে শিশুদের জন্য পার্ক গড়ে তোলা হয়। সভাস্থলে নেতাজী যে জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন, সেখানে তাঁর আবক্ষ মূর্তিও বসানো হয়। পরবর্তীকালে পার্কটির সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছিল।
নেতাজি জঙ্গিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনেও দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করেছিলেন। তারপর মহাবীরতলা সদর ফেরিঘাট দিয়ে নৌকায় ভাগীরথী নদী পেরিয়ে জঙ্গিপুর পুরসভা ভবনেও যান। পরের বছর ১৯৩৯সালেও তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য জাতীয় কংগ্রেসের সভায় জঙ্গিপুরে আসেন।
জঙ্গিপুর মুনিরিয়া হাইমাদ্রাসার ইতিহাসের শিক্ষক ইমতিয়াজ শেখ বলেন, সুভাষচন্দ্র বসু জঙ্গিপুরের মাটিতে পা দিয়ে স্থানীয় মানুষকে ধন্য করেছেন। নেতাজির আদর্শ ও তাঁর অন্তর্ধান রহস্য দেশবাসীকে জানানো উচিত। তাঁর জন্মদিন সরকারিভাবে দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
জঙ্গিপুর সরস্বতী লাইব্রেরি ও ক্লাবের কর্মকর্তা সাগর সাহা বলেন, দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের শ্রদ্ধা জানাতে আমরা নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। এবারও ১৫আগস্ট নানা কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ