Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জগৎবল্লভপুরে পোকা সমেত খিচুড়ি খেয়ে অসুস্থ শিশুরা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিক্ষোভ

চালে ধরেছিল পোকা। সেই চাল না ধুয়েই খিচুড়ি রান্না করে শিশুদের খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে।

জগৎবল্লভপুরে পোকা সমেত খিচুড়ি খেয়ে অসুস্থ শিশুরা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিক্ষোভ
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চালে ধরেছিল পোকা। সেই চাল না ধুয়েই খিচুড়ি রান্না করে শিশুদের খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। এই গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকা। বুধবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুদের অভিভাবকরা।

Advertisement

জগৎবল্লভপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপুর দিঘিরপাড় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রায় ১৪০ জন পড়ুয়া রয়েছে। মঙ্গলবার শিশুদের খিচুড়ি খেতে দেওয়া হয়। তাদের অনেকেই খিচুড়ি টিফিন বক্সে ভরে বাড়ি নিয়ে যায়। বাড়ি গেলে দেখা যায়, খিচুড়ির মধ্যে ছোট ছোট মরা পোকা। এদিকে যে পড়ুয়ারা স্কুলে বসে খিচুড়ি খেয়েছিল, তাদের মধ্যে দু’-তিনজন বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দুপুরের পর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিভাবকরা সেখানে গিয়েও ফিরে আসেন। বিষয়টি তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান। এদিন সকালে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। স্কুল খুলতেই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা অঙ্গনওয়াড়ির শিক্ষিকা শম্পা নন্দীর উপর চড়াও হন। রান্নাঘরে ঢুকে দেখা যায়, চালের বস্তায় গিজগিজ করছে পোকা। নিজেদের গাফিলতির কথা স্বীকার করে নেন শিক্ষিকা। তিনি বলেন, ‘চালে যে পোকা রয়েছে, তা খেয়াল না করেই রান্না করা হয়েছিল। রাঁধুনির গাফিলতিতে এমনটা হয়েছে। আগামী দিনে এই ধরনের কাজ আর হবে না। সতর্কতার সঙ্গেই রান্না করা হবে।’
জাহিরা খাতুন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘খিচুড়িতে পোকা ছিল। তা না দেখেই ছেলে খেয়েছিল। বাড়ি ফিরে আসার পর ওর বমি শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে ওকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটে যাই। আরও কয়েকটি বাচ্চার এমন হয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা শেখ হাসিবুর রহমান, আসিফ মণ্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চালের ওই বস্তাগুলি পড়ে রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে বস্তাগুলি। পোকা ধরা চাল দিয়েই রান্না করা হচ্ছে।’ এই প্রসঙ্গে ব্লকের শিশু বিকাশ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘নজরদারির অভাবে ওই কেন্দ্রের মিড ডে মিলে সমস্যা হয়েছে। অভিভাবকদের বিক্ষোভ স্বাভাবিক।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে দপ্তরের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ