Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আরপিএফের সহায়তায় তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসের শৌচালয়েই সন্তান প্রসব

আচমকা সন্তানসম্ভবা নেহা দেবীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়।

আরপিএফের সহায়তায় তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসের শৌচালয়েই সন্তান প্রসব
  • ১৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বিহারের ভাগলপুর জেলার মথুরাপুরের বাসিন্দা ২৬ বছরের নেহা দেবী স্বামী রূপেশ মহালদারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার জন্য গুয়াহাটি-মালদহ এক্সপ্রেসে সওয়ার হয়েছিলেন। আচমকা সন্তানসম্ভবা নেহা দেবীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। একপ্রকার বাধ্য হয়েই স্বামীকে নিয়ে নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনে নেমে যান। 

Advertisement

তখন বেলা ১২টা। নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অন্তঃসত্ত্বা নেহা দেবীকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত আরপিএফ মহিলা কনস্টেবল স্বপ্না দাস। তিনি সঙ্গে সঙ্গে খবর পাঠান রেল অফিসারদের কাছে। এদিকে, প্রসব যন্ত্রণায় তখন নেহা দেবী নেতিয়ে পড়েছেন। ফলে হাতে এতটুও সময় আর নেই। এই অবস্থায় উপায় না পেয়ে মহিলা কনস্টেবল স্বপ্নাদেবী স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো নিউ আলিপুদুয়ার-শিয়ালদহ তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসের এস-৮ সংরক্ষিত কামরার শৌচাগারে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নাদেবী ও নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনের চাইল্ড হেল্প ডেস্কের সহায়তায় ট্রেনের শৌচাগারেই নেহা দেবী পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ১২টা ১০ মিনিটে। 
ততক্ষণে খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা স্টেশনে চলে আসেন। চিকিৎসকরা সদ্যোজাত ও তাঁর মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন দু’জনই সুস্থ আছেন। পরে সদ্যোজাত ও প্রসূতি দু’জনকেই আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। 
নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন থেকে তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসের দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার জন্য ট্রেনটি দুপুর ১টি ২৬ মিনিটে নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন ছাড়ে। নেহা দেবীর স্বামী রূপেশবাবু বলেন, আরপিএফের মহিলা কনস্টেবল ও রেল অফিসারদের যে কী ভাষায় কৃতজ্ঞতা জানাব তা আমার জানা নেই। তাঁদের এই মানবিক সহায়তার কারণে স্ত্রী সফলভাবে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। এই সহায়তার কথা সারা জীবন মনে থাকবে। অন্যদিকে, কনস্টেবল স্বপ্নাদেবী জানিয়েছেন, মানবিকতার টানেই এই কাজ করতে হয়েছে। 
এদিকে, এই মানবিক কাজের জন্য স্বপ্নাদেবী সহ তিন আরপিএফ কর্মীকে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। রেলের আলিপুরদুয়ারের ডিআরএম অমরজিৎ গৌতম বলেন, ওই মহিলাকে সন্তান প্রসব করানোর কাজে সহায়তা করে আমাদের মহিলা আরপিএফ অফিসাররা মানবিকতার এক অনন্য নজির তৈরি করেছেন। তাঁদের জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ