সংবাদদাতা, খড়্গপুর: কাঁসাই বা কংসাবতী নদীর জলের তোড়ে ভাঙল অস্থায়ী রাস্তা। এর জেরে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নদীর দুই পারের মধ্যে। চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এখন নৌকা। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের ট্যাবাগেড়িয়া এলাকার। টানা বৃষ্টির ফলে গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ট্যাবাগেড়িয়াতে কাঁসাই নদীর উপর থাকা অস্থায়ী রাস্তাটি ভেঙে যায়। ফলে সকাল থেকেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন হাজার হাজার বাসিন্দা থেকে নিত্যযাত্রীরা। এই ঘটনার পর ফের একবার ট্যাবাগেড়িয়া সেতুর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসীরা। ভোটের আগে এই সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৎকালীন শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষই। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম আজ বলেন, সেতু অবশ্যই হবে। জমির যে সমস্যাটি রয়েছে আমরা তা মেটানোর চেষ্টা করছি। আপাতত অস্থায়ী সেতু করা হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যেই তা হয়ে যাবে। এছাড়া নৌকাও রয়েছে।
মাঝখানে কাঁসাই নদী। নদীর এপারে ডেবরার ১০টি অঞ্চল। থানা, হাসপাতাল, বিডিও অফিস, বাসস্ট্যান্ড, জাতীয় সড়ক, স্টেশন (বালিচক) সহ সবকিছুই এপারে। কিছুটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতোই নদীর ওপারে বসবাস করেন চারটি অঞ্চলের প্রায় ৭০-৮০ হাজার মানুষ। প্রতিবছরই বর্ষার পর নদীর উপর বাঁধ দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করেন বাসিন্দারা। বর্ষা এলেই সেই রাস্তা ভেসে যায়। তখন নৌকাই হয় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। তবে অস্থায়ী সেতুও তৈরি হয়। গতবছর নৌকার উপর পাটাতন দিয়ে ভাসমান পুল তৈরি করা হয়েছিল। গাঁটের কড়ি খরচ করে ওই অস্থায়ী সেতু দিয়েই যাতায়াত করতে হয় দুই পারের হাজার হাজার মানুষকে। এবারও তেমনটাই করা হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক শুভাশিস ওম এবং বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ি। তাঁরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে গিয়েছে। তবে, নৌকাও থাকছে। যতদিন না সেতু তৈরি হচ্ছে ততদিন কেবল নৌকা বা ফেরি যোগাযোগই ভরসা! এলাকার বাসিন্দা রথিন সাউ, সুমিত জানারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে ট্যাবাগেড়িয়াতে স্থায়ী কংক্রিটের সেতুর দাবি করে আসছি আমরা। ভোট এলেই সব দল প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু, কাজের কাজ আর হয় না। ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম বলেন, নদীর এক পারের বাসিন্দারা জমি দিতে রাজি হয়েছেন। অপরপারের মানুষদের সঙ্গেও আমরা কথা বলছি। জমি-সমস্যা মিটলেই ট্যাবাগেড়িয়া সেতু তৈরির বিষয়টি একধাপ এগিয়ে যাবে।