নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুরসভার জঞ্জালের গাড়ির ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র রবিবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল উত্তরপাড়ায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াই ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দারা পথ অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। উত্তরপাড়া থানার পুলিস এসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত র্যাফ নামাতে হয়। পরে অভিযুক্ত গাড়ির চালককে পুলিস আটক করলে বিক্ষোভ প্রশমিত হয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃত শিশুর বয়স ২ বছর ৭ মাস। নাম অংশ গোড়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার জঞ্জালের গাড়ির চালক কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনতে শুনতে গাড়ি চালাচ্ছিল। স্বভাবতই অন্যমনস্ক ছিল সে। তার উপর তীব্র গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল। ওই সময় রাস্তার ধারে খেলছিল শিশুটি। তাকে ধাক্কা মারার পর হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যায় জঞ্জালের ওই গাড়ি।
স্থানীয়দের দাবি, কড়াই ফ্যাক্টরি এলাকায় রাস্তা অপরিসর। তার উপর জলের লাইপ পাইপ বসানো সহ অন্যান্য কারণে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য রাস্তাটি বেহাল হয়ে রয়েছে। প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে যেসব গাড়ি যায়, স্থানীয়রা সেইসব চালকদের ধীরে চলার পরামর্শ দেন। আবর্জনার গাড়ির চালককেও সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকী, এদিন দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে অংশর বাবা অখিল গোড় জঞ্জালের গাড়ির চালককে আস্তে চালাতে বলেছিলেন। অখিলবাবু নিজেও পেশায় গাড়িচালক। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, বাচ্চারা রাস্তায় ধারে খেলছে। সাবধানে গাড়ি না চালালে দুর্ঘটনা হবে। কিন্তু চালক কানে হেডফোন দিয়ে তীব্র গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল। তার জেরেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আসলে তাকে খুন করা হয়েছে। এর বিচার চাই।’
জঞ্জালের গাড়ির ধাক্কায় শিশু জখম হওয়ার খবর পেয়েই উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব। দিলীপবাবু বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। কে দোষী, তা পুলিস খতিয়ে দেখবে। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্ত হোক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। পুরসভা এই পরিবারের পাশে থাকবে। উত্তরপাড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কড়াই ফ্যাক্টরি এলাকায় এদিন সকালে বাড়ির সামনেই রাস্তার ধারে খেলছিল অংশ। তার বাড়ির লোকজন স্থানীয়দের সঙ্গে রামনবমীর মিছিলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পুরসভার জঞ্জালের গাড়ি দুরন্ত গতিতে এলাকায় ঢুকে পড়ে। একদিকে কানে হেডফোন, অন্যদিকে সরু গলিতে গাড়ির তীব্র গতি। তার জেরে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে চালক শিশুটিকে প্রথমে ধাক্কা মারে। তারপর টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনই শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানেই মৃত্যু হয় অংশর।