নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, বরানগর ও সংবাদদাতা, বনগাঁ : অল্প বৃষ্টিতেই জল থই থই করে হাবড়া। বুস্টার পাম্পিং স্টেশন করেও যন্ত্রণার মুক্তি হয়নি। জল জমে থাকছে বিভিন্ন এলাকায়। এবার সুষ্ঠু নিকাশি ব্যবস্থার জন্য হাবড়া শহরে সেন্ট্রাল ড্রেন তৈরি করতে চলেছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই ২৭ কোটি টাকার ডিপিআর তৈরি করে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে জমা পড়ে গিয়েছে। শীঘ্র কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে আশাবাদী পুরসভা।
হাবড়া পুরসভা এলাকায় বর্ষার অতিরিক্ত জলের পাশাপাশি অশোকনগর ও হরিণঘাটা থেকেও জল ঢুকে পড়ে হাবড়ায়। প্রতিবছর জলমগ্ন হয়ে পড়ে পুরসভার বেশ কিছু ওয়ার্ড। দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। সেই কথা মাথায় রেখে ২৪ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দু’টি বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরি হয়েছে। কিন্তু, শহরের জলযন্ত্রণা কমেনি। ২৪টি ওয়ার্ডই কার্যত জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ফলে পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল নিকাশির দাবি তুলে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দুর্গতরা। এই পরিস্থিতিতে জমা জলের সমস্যা মেটাতে সেন্ট্রাল ড্রেন তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণ সাহা। তিনি বলেন, শহরে ৭, ৮, ১৪, ১৫, ১৬ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের উপর দিয়ে এই সেন্ট্রাল ড্রেন যাবে। ছোট ছোট নিকাশি নালার জল পড়বে পদ্মা খালে। সেই জল খাল হয়ে চলে যাবে নাংলা বিলে। শেষে জল গিয়ে পড়বে ইছামতীতে। ফলে, শহরে জল আর আগামী দিনে থমকে যাবে না। পাশাপাশি ওয়ার্ড ভিত্তিক ড্রেন তৈরি করা হবে। এই কাজের জন্য ডিপিআর তৈরি করে পুরদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। এই নিয়ে বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, হাবড়ায় জলযন্ত্রণার মুক্তি কোনও দিনই হবে না। যেভাবে দখলদারি হয়ে আছে তা বলার নেই।
সকালে বরানগর বিটি রোডে জল থাকলেও বৃষ্টি কমায় দুপুরের পর তা নেমে যায়। তবে নিয়োগী পাড়া, ব্যারিস্টার পি মিত্র লেন, ন’পাড়া সহ নিচু এলাকায় জল যন্ত্রণা রয়েছে। কামারহাটির বিটি রোড ছাড়াও নন্দননগর, প্রফুল্লনগর সহ অনেক নিচু এলাকায় জল রয়েছে। পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সহ বিভিন্ন বিভাগে এখনও জল রয়েছে। এছাড়া এসবি টাউন, ঘোলা, আগরপাড়া সহ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলবন্দি। উত্তর দমদমের দেবীনগর সহ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের বহু এলাকায় জল রয়েছে। এই দেবীনগর এলাকাতেই জলে ডুবে মৃত্যু হয় ছ’মাসের শিশুর। ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়। নিমতার সেই এলাকা থেকে জল এখনও সম্পূর্ণ নামেনি।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন বনগাঁ পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা। পুরসভার ২২টির মধ্যে ১৪ ওয়ার্ডের একাংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জলবন্দি প্রায় ৮ হাজার মানুষ। বেশ কিছু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২৪টি পাম্পের সাহায্যে জমা জল সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দুর্গতদের শুকনো খাবার, জল দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ বলেন, ‘নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় জমা জল সরতে দেরি হচ্ছে।’